কৃষক, কৃষিযন্ত্র মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়াই এখন ডিজেলনির্ভর। সেচ থেকে শুরু করে ধান কাটা, মাড়াই, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ—সব ধাপেই জ্বালানির ব্যবহার বাধ্যতামূলক। ফলে সরবরাহে সামান্য ঘাটতি হলেই উৎপাদন খরচ ও ফসল ঘরে তোলা উভয়ই ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২১ লাখের বেশি ডিজেলচালিত কৃষিযন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কম্বাইন হারভেস্টার, পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর ও সেচযন্ত্র। শুধু সেচ মৌসুমেই কৃষিতে ডিজেলের চাহিদা প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন।
অন্যদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশে ডিজেলের দৈনিক সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম। এই ঘাটতির প্রভাব সরাসরি কৃষিখাতে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। কেউ কেউ জানান, প্রয়োজনের সময় ডিজেল না পেয়ে মাঠে যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
হাওরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত ধান কাটার জন্য কম্বাইন হারভেস্টারের ব্যবহার বাড়লেও অনেক যন্ত্র মেরামত না হওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় পরিবহন ও মাড়াই কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে শুধু কৃষক নয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাদের মতে, কৃষিতে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, বোরো উৎপাদন দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তাই জ্বালানি সংকট দীর্ঘ হলে এর প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়বে।
এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অচল কৃষিযন্ত্র মেরামত ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যা