সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, অনেক গাড়িচালককে ট্যাংক ভর্তি তেল নিতে ২৪ থেকে ৩২ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে থাকতে হচ্ছে। এতে শুধু সময়ই নয়, অতিরিক্ত শ্রম খরচ, খাবার ব্যয়, এমনকি লাইনে দাঁড়িয়ে গাড়ির নিজস্ব জ্বালানি খরচও যোগ হচ্ছে। ফলে কাগজে-কলমে যে দামে তেল বিক্রি হচ্ছে, বাস্তবে তা আরও বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি বের করা হচ্ছে না, অনেকে রিকশা, সিএনজি বা মোটরবাইকে ঝুঁকছেন। এক সপ্তাহের জ্বালানি দুই সপ্তাহে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।
তারপরও যদি স্টেশনগুলোতে লাইন কমে না, তাহলে প্রশ্ন উঠছে—সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কি কোথাও দুর্বলতা আছে? পরিবহন ও বিতরণ চেইনে কি সমস্যা তৈরি হয়েছে? নাকি আতঙ্কে অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা বেড়েছে? নাকি বাস্তব সংকট আংশিক হলেও তা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? বিমানবন্দরেও প্রভাব?
ভ্রমণকারীদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, বিমানবন্দরের ভেতরে নির্ধারিত সেবা গাড়ির পরিবর্তে বাস ব্যবহার করতে বলা হয়েছে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়।
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব বিদ্যুৎ খাতেও পড়ছে বলে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ আসছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কথাও জানা যাচ্ছে। শিল্প, ব্যবসা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সরকারের জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার—জ্বালানি মজুত ও সরবরাহের বাস্তব তথ্য প্রকাশ; ফুয়েল স্টেশনভিত্তিক মনিটরিং ও ডিজিটাল কিউ সিস্টেম চালু; অগ্রাধিকারভিত্তিতে জরুরি খাতে জ্বালানি বরাদ্দ; গুজব ও কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর অভিযান; বিকল্প পরিবহন ও গণপরিবহন শক্তিশালী করা; লোডশেডিং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ সময়সূচি প্রকাশ।
সরকার বলছে সংকট নেই, কিন্তু মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। এই দুই বাস্তবতার ফাঁকেই বাড়ছে জনদুর্ভোগ। মানুষ এখন আশ্বাসের চেয়ে কার্যকর সমাধান দেখতে চায়। কারণ জ্বালানি শুধু গাড়ির জন্য নয়, এটি অর্থনীতি, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনের চালিকাশক্তি। পরিস্থিতি দ্রুত সামাল না দিলে এই ভোগান্তি আরও বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপে রূপ নিতে পারে।