দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৬ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই খাতে টানা আট মাস ধরে রপ্তানি কমছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ প্রধান প্রায় সব বাজারেই পতন দেখা গেছে। একমাত্র ব্যতিক্রম স্পেন, যেখানে রপ্তানি প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে।
শীর্ষ ১০ বাজারের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা, জাপান ও ডেনমার্ক। এর মধ্যে জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে—প্রায় ১৪ শতাংশ। দেশটিতে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩২৭ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৮০ কোটি ডলার।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পতন হয়েছে ডেনমার্কে, প্রায় ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। ফ্রান্সে রপ্তানি কমেছে ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
একক বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৯ কোটি ডলারে। যুক্তরাজ্যে কমেছে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ।
নতুন বা অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যেও চাপ রয়েছে। জাপানে রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৭৯ কোটি ডলারে।
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, মার্কিন পাল্টা শুল্ক, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকট—সব মিলিয়ে রপ্তানি কমছে। তার মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।
বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সাধারণত প্রচলিত ও অপ্রচলিত—এই দুই ভাগে বিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, যুক্তরাজ্য ও কানাডা প্রচলিত বাজার হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে ভারত, চীন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশকে উদীয়মান বাজার হিসেবে ধরা হয়।