কাঁটাবন থেকে মহাখালী—প্রতিটি ব্যস্ত সড়কেই একই চিত্র। মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসের দীর্ঘ লাইন কোথাও কোথাও মূল সড়কের অর্ধেক দখল করে ফেলেছে। এতে যানজটের পাশাপাশি তীব্র গরমে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলিফ্যান্ট রোডের একটি ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, তেলের জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের কারণে সড়কে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। পাম্প কর্তৃপক্ষের মতে, সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চাপই এই দীর্ঘ লাইনের প্রধান কারণ।
মহাখালীর আমতলীতেও একই পরিস্থিতি। সরকারি তিতুমীর কলেজের বিপরীত পাশ থেকে শুরু হয়ে লাইন পৌঁছে গেছে আমতলী মোড় পর্যন্ত। আলাদা লাইনে মোটরসাইকেল ও চার চাকার যানবাহন দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী হাফিজুর রহমান বলেন, “প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। টোকেন পেলেও তেল কবে পাবো নিশ্চিত না।”
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক পেশাজীবী এখন দিনের কাজের ফাঁকে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বৈশ্বিক বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে বাস্তবে শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও কালোবাজারি পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট মূলত সরবরাহ নয়, বরং বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির ফল। এতে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাও কার্যত অচল হয়ে পড়ছে।