আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ভোলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলার জন্য মাঠ প্রয়োজন। ইতিমধ্যে সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব মাঠে আগামী প্রজন্ম খেলাধুলা করবে এবং নিজেদের সুস্থভাবে গড়ে তুলবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতির অংশ হিসেবে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হচ্ছে। পড়াশোনা করে শুধু ডাক্তার, প্রকৌশলী ও ব্যারিস্টারই নয়, খেলোয়াড় হিসেবেও যাতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা যায়, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মাধ্যমে তৃণমূলের খেলোয়াড়দের প্রতিভা অন্বেষণ করে চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভর্তি করানো হচ্ছে। তাঁদের খেলাধুলা ও পড়াশোনার সব দায়িত্ব সরকার বহন করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের মধ্যে যাঁরা ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল কিংবা সাঁতারে দক্ষ, তাঁদের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলে মাঠে নামানোই সরকারের লক্ষ্য।
আমিনুল হক বলেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকেই আগামী শিক্ষাক্রমে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি বই সংযোজন করা হচ্ছে। পাঠ্যপুস্তকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করে স্কুলগুলোতে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সত্যিকার অর্থে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
গত ১৭ বছরের সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর ওই স্বৈরাচার সরকার শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে, তাদের নিজেদের পকেটের উন্নয়ন করেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কোনো উন্নয়ন করে যেতে পারেনি।’
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সাত মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুসহ শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও নতুন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। গাছ লাগানো ও খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে চায় সরকার। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের সম্মানিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুধু তাঁর বা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
ভোলা ও বরিশাল জেলার প্রতিটি উপজেলায় কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব ল্যাবের মাধ্যমে উদ্বোধন করা ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারের সদস্য এবং বেকার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করতে চায়। প্রতিটি মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য কাজ করাই সরকারের লক্ষ্য।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এখনো ওই স্বৈরাচারের দোসররা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জনের সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। সেই বিশৃঙ্খলা দমন করার জন্য আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। কারণ, এই দেশটি আমাদের, আমরা এই দেশে জন্মেছি। আমরা যাতে এই দেশটিকে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি।’
জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মো. জোবায়েদ হোসেন, ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর ও পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার।
অনুষ্ঠান শেষে ১৮ জন সফল ফ্রিল্যান্সারকে স্বীকৃতিস্বরূপ ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন দেওয়া হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ভোলার ইলিশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন বায়োগ্যাস পল্লী এবং শহরের পুরোনো যুগীরঘোল এলাকায় জেলা ক্রীড়াদলের কার্যালয় উদ্বোধন করেন।