সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক এই এমপি দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের ডালউইচ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ওটু (O2) ও ইই (EE)—দুটি শীর্ষ অপারেটরের গ্রাহক হওয়া সত্ত্বেও তিনি সেখানে নির্ভরযোগ্য সিগন্যাল পাচ্ছেন না, যা তাঁর পেশাগত কাজ ব্যাহত করছে।
২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে সামরিক দায়িত্ব পালন করা টুগেনডহ্যাট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এক দশক আগে কাবুলে আমি যে মানের মোবাইল সেবা পেয়েছিলাম, এখন লন্ডনে বসে তার চেয়েও খারাপ সিগন্যাল পাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় মোবাইল ফোনসেবা প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফ্রান্সের মতো দেশে ট্রেনে ভ্রমণের সময় যেভাবে নির্বিঘ্নে কাজ করা যায়, যুক্তরাজ্যে তা কল্পনাও করা যায় না।
টুগেনডহ্যাটের অভিযোগ, সরকার সাইকেল লেন ও পথচারী পারাপারের মতো প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। একই সঙ্গে তিনি ওটু, ইই ও ভোডাফোনের মতো শীর্ষ মোবাইল অপারেটরগুলোর সীমিত প্রতিযোগিতাকেও দায়ী করেন। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত প্রতিযোগিতা না থাকায় সেবার মান উন্নয়নের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপাচ্ছে।
মোবাইল নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ওকলা -এর গত বছরের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের ১১টি বড় শহরের মধ্যে লন্ডনের ৫জি পারফরম্যান্স ছিল সবচেয়ে কম।
বিশ্লেষকদের মতে, লন্ডনের জটিল পরিকল্পনা অনুমোদন প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রয়োজনীয়সংখ্যক মোবাইল টাওয়ার স্থাপন সম্ভব হচ্ছে না। মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন ‘মোবাইল ইউকে’-এর প্রধান নির্বাহী হামিশ ম্যাকলিওড বলেন, এসব আইনি জটিলতার কারণে লন্ডনের প্রায় ৭ শতাংশ মোবাইল সাইট যেকোনো সময় অকার্যকর অবস্থায় থাকে।
অন্যদিকে, ওটু ও ইই-এর মতো অপারেটরগুলো সমস্যার কথা স্বীকার করলেও এর জন্য তারা পুরোনো ও জটিল নগর পরিকল্পনা নীতিমালাকে দায়ী করছে। তাদের দাবি, এসব নীতির কারণে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও বিদ্যমান নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন ব্যাহত হচ্ছে।