স্থানীয় তদন্ত প্রতিবেদনে সাধারণ কৃষকদের হয়রানি ও সার বিক্রি না করে অকৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা এবং ভাউচারে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিসিআইসির ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল হাজীর প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিসিআইসি (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন) থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে জেনারেল ম্যানেজারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত শেষে ঢাকায় চলে গেছেন।
বিষয়টি নিয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা তদন্ত কমিটির সভাপতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শী, ডিলার ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনও’র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্স এর মালিক তাইফুর রহমান মুকুল পর্যাপ্ত পরিমান সার বরাদ্দ পেলেও কৃষকদের দিতে গড়িমসি করেন। তিনি ইতোমধ্যে কয়েক দফায় ১৩৬০ বস্তা সার বরাদ্দ পান। রবিবার সার বিতরণের ৩৪০ বস্তা সার আছে জেনে সার না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকেরা গুদামের দরজা ও টিনের বেড়া ভেঙে ৫০কেজি ওজনের ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত ১২০টি সারের বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে বলে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও অমৃত দেবনাথ বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার লুটের ঘটনায় ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়ম পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডিলারের বিরুদ্ধে রেজিস্টার্ড খাতা, ভাউচারে অসংগতি, অকৃষকের মধ্যে সার বিতরণের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার বরাবর প্রেরণ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে কর্তৃপক্ষ বলে জানান তিনি। এ কারণে তাঁকে শোকজ করা হয়েছে।
অপরদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার লুট ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কেন্দ্রীয়ভাবে জেনারেল ম্যানেজারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিসিআইসি তদন্ত কমিটি গতকালই তদন্ত শেষ করে ঢাকায় ফিরে গেছেন। আর স্থানীয় তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের আতঙ্কিত হবার কোনো কারণ নেই। চাহিদানুযায়ী ইউরিয়া সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তাই অগ্রিম সার ক্রয় করার প্রয়োজন নেই। কোনো কৃষক ডিলারদের নিকট থেকে চাহিদানুযায়ী সার না পেলে সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন থেকে সার প্রদান করা করা হবে এবং তা পরবর্তীতে কৃষি অফিস সমন্বয় করবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (বিএডিসি) এর আওতায় ১১৪ জন ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) আওতায় ৯৪জন সার ডিলার রয়েছে। প্রতি ইউনিয়নে বিএডিসি ৩জন ও বিসিআইসি ১ জন ডিলার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে কোথাও কোথাও কম বেশি রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীতে সকল ডিলারদের সমন্বিতভাবে সমহারে ইউরিয়া সারসহ অন্যান্য সার সরবরাহের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যক্রম চলছে।