কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরে শাকসবজীর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমি। এরমধ্যে চাষাবাদ শুরু হয়েছে ১হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। আগাম শীতকালীন সবজীর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫০ হেক্টর। এরমধ্যে আগাম লাউয়ের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ৩৬০ হেক্টর।
সরজমিন উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের ধরলা নদী তীরবর্তী রাঙামাটি ও খোঁচাবাড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদী তীর সংরক্ষণ ওয়াপধা বাঁধে গিয়ে দেখা যায় সবুজের সমারোহ। বাঁধের দু’পাশের ঢালে দেড় থেকে দু’কিলোমিটার ব্যাপী এলাকা সবুজ চাদরে ঢাকা পরেছে। কোথাও কোথাও লতানো লাউয়ের ডটা মাথা তুলে বাতাসে দোল খাচ্ছে। বাঁশের জাংলার নীচে ছোট বড় লাউ যেন তড়তড়িয়ে বেড়ে উঠছে। এরমধ্যে সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য দু’পাশের লাউয়ের জাংলার মাঝখানে ওয়াপদা বাঁধের মাঝ সড়কে গোল করে গেট তৈরি করা হয়েছে। দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ ও মরিচাবাতি। বিকেল হলেই রঙিন আলোর ঝলকানি আশপাশের গ্রামের মানুষকে এখানে টেনে আনে। সেখানে টং-এর মধ্যে বসে সময় কাটে তাদের।
রাঙামাটির কৃষক আলতাফ হোসেন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা বাঁধের ঢালে জুলাই থেকে অক্টোবর মাসে কোন মেরামতকরণ কাজ থাকে না। সেই বিবেচনায় তারা বাঁধের ঢালে লাউয়ের চারা লাগিয়েছেন। দু’পাশে তারা ৩শ’টি গর্ত করে লাউ চারা রোপন করেছেন। এতে গর্ত খোড়া, বাঁশ দিয়ে খুটি ও জাংলা করা, দঁড়ি, গোবরসার, সেচ ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করা হয়েছে। তারা আশা করছেন আরও ২ লাখ টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন। তবে আশার খবর হচ্ছে, লাউ বিক্রি করতে বাজারে যেতে হয় না। পাশাপাশি ফুলবাড়ী, লালমনিরহাট, বড়ভিটা, নাগেশ^রী, ভূরুঙ্গামারী ও কুড়িগ্রাম সদরের পাইকাররা এসে লাউ কিনে নিয়ে যান।
খোঁচাবাড়ির কৃষক আব্বাস আলী জানান, এসময় বন্যায় চারপাশে পানি থাকে ফলে নীচু জমিতে সবজিচাষ করা ঝুঁকি হয়। বাঁধের ঢাল উঁচু হওয়ায় ডুবে যাওয়ার আশংকা থাকে না। এছাড়াও জমির জন্য আলাদা খরচ করতে হচ্ছে না। এছাড়াও বাঁধের ঢালের নীচে বরোপীঠে পানি থাকায় সহজে সেচের পানি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সবদিক থেকে খরচ কম হওয়ায় লাভের পরিমান বেশি হচ্ছে।
এই এলাকার রাহেনা বেগম জানান, অন্যদের দেখাদেখি তারা স্বল্প বাঁধের ঢালে করলা, অড়হর কালাই, মিষ্টিকুমড়া ও পশুখাদ্যের জন্য ঘাস লাগিয়েছেন।
কৃষক মন্তাজ আলী জানান, জেলায় বেশিরভাগ ওয়াপদা বাঁধের ঢালগুলো খালি পরে থাকে। এগুলো ব্যবহার করতে পারলে মানুষ নিজেরা সবজির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে লাভবান হতে পারবে।
তবে কৃষকদের অভিযোগ সবজিচাষে সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হয় কিন্তু সার সংকট ও কীটনাশকসহ সারের মূল্যবৃদ্ধিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তারা চান সঠিক তদারকীর মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধির হ্রাস টেনে ধরা।
বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নদী সংরক্ষণ বাঁধের ঢালে ভূমিহীন চাষীরা লাউচাষ করেছেন। এই মূহুর্তে যেহেতু বাঁধের কাজ হয় না। এই সময়টাকে তারা কাজে লাগিয়েছে। এতে তাদের পুষ্টিচাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবেন। #