প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কম আয়ের অভিবাসীদের মধ্যে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদে থাকার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। বিপরীতে, যাদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের ওপরে, তারা দ্রুত দেশ ছাড়ছেন। MAC-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, উচ্চ আয়ের কর্মীদের জন্য বিশ্বজুড়ে বহুবিধ চাকরি ও ব্যবসার সুযোগ থাকে। পাশাপাশি অন্য দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার আর্থিক সামর্থ্য বেশি থাকায় তাদের পক্ষে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ সময় থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলক কম অনুভূত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন প্রস্তাব ও MAC-এর সতর্কতা
এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যাবানা মাহমুদ সেটেলড স্ট্যাটাস বা স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা বর্তমানের ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে এই নিয়মে কিছু শিথিলতার আভাসও রয়েছে। যারা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করবেন, বিশেষ করে উচ্চ হারে কর প্রদান করবেন, তারা আগের নিয়ম অনুযায়ী ৫ বছরেই 'ইনডিফিনিট লিভ টু রিমেইন' (ILR) বা স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে অভিবাসন নীতি কঠোর করার এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে MAC। তাদের মতে, সেটেলমেন্টের নিয়ম কঠিন করা হলে উচ্চ আয়ের দক্ষ কর্মী ও উচ্চশিক্ষা খাতের পেশাজীবীরা যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হতে নিরুৎসাহিত হবেন। এমনকি বর্তমানে যারা দেশটিতে কর্মরত আছেন, তারাও দীর্ঘ অপেক্ষার বেড়াজালে না পড়ে অন্য কোনো দেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ অভিবাসীদের ধরে রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য বেশ সফল। ৪৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ৮১ শতাংশ কর্মী ৫ বছর পরও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, যেখানে ৪৫ ঊর্ধ্বদের ক্ষেত্রে এই হার ৬৫ শতাংশ।
পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতের কর্মীদের মধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকার হার সবচেয়ে বেশি—যার মধ্যে ৯৪ শতাংশ নার্সই ৫ বছর পর দেশটিতে থেকে গেছেন। এর মূল কারণ হিসেবে তাদের বার্ষিক আয় ৪০ হাজার পাউন্ডের কম হওয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপরীতে, সবচেয়ে কম থাকার প্রবণতা দেখা গেছে গবেষক এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে। 'ন্যাচারাল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্স প্রফেশনাল' ক্যাটাগরির মাত্র ৫৭ শতাংশ ব্যক্তি ৫ বছর পর যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। স্বল্পমেয়াদী চাকরির চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আকর্ষণীয় সুযোগই এর প্রধান কারণ।
আঞ্চলিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে থেকে যাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া এবং পূর্ব এশিয়ার অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এই হার বেশ কম। যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরে লন্ডন শহর অভিবাসীদের সবচেয়ে বেশি ধরে রাখতে পেরেছে, যেখানে স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসে থাকার হার ছিল সর্বনিম্ন।
লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের যুক্তরাজ্যে থাকার প্রবণতা প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতে নারীদের ব্যাপক কর্মসংস্থান ও অংশগ্রহণই এই পার্থক্যের মূল কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।