বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ‘করতোয়া’য় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বগুড়ার উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভূমিকা স্মরণ করেন আব্দুল বারী। তিনি বলেন, শহীদ জিয়া একজন সামরিক কর্মকর্তা, প্রেসিডেন্ট এবং একটি ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে আজিজুল হক কলেজের ছাত্র হিসেবে তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণার প্রভাব তিনি নিজ চোখে দেখেছেন।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে এসে জিয়াউর রহমান দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, পোশাকশিল্প, পল্লী বিদ্যুৎ ও বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন বলেও দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে আব্দুল বারী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০০১ সাল থেকে তাঁর অধীনে চাকরি করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় তিনি সহ্য করতেন না।
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আব্দুল বারী বলেন, দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনসহ দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
‘সততা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পদায়ন’
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সততা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই কর্মকর্তাদের পদায়ন ও পদোন্নতি দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সরকারি দপ্তরে কাজের ধীরগতি দূর করে সেবার গতি বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত সরকারের জনকল্যাণমুখী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তারা আইন ও বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে বাধ্য। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কোনো সুযোগ নেই।
দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা আনতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন চালু করা হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থার বিস্তারের মাধ্যমে মানুষের সরাসরি সরকারি দপ্তরের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং দুর্নীতির সুযোগ সংকুচিত করা সম্ভব।
রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশ সফরেও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মাত্র ১৯ জন সফরসঙ্গী নিয়ে বিদেশ সফর করে রাষ্ট্রীয় ব্যয় সাশ্রয়ের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‘নোট ছাপিয়ে নয়, সম্পদ তৈরি করে অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হবে’
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যেও সঠিক নীতি গ্রহণের কারণে আশপাশের বিভিন্ন দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলেও বাংলাদেশের মুদ্রার মান তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। অতিরিক্ত নোট ছাপিয়ে অর্থনীতিকে সাময়িকভাবে সচল রাখার পরিবর্তে সম্পদ সৃষ্টি ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একই ধরনের ব্যাগ, পোশাক ও মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয় পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সহযোগিতার আওতায় আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় বগুড়ার জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সরকারি সেবা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।