উপজেলার চুড়ারগাতি, চরগয়াশপুর, কাশীপুর, বসুরধুলজুড়ী, ভোলানাথপুর, রুইজানী, গোপালনগর, জাঙ্গালীয়া, ধুপুড়িয়া, রায়পাশা, চরপাচুড়িয়া, হরেকৃষ্ণপুর, আড়মাঝি, ঝামা, দেউলি ও কালীশংকরপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন চলছে। এর মধ্যে চুড়ারগাতি, চরগয়াশপুর, বসুরধুলজুড়ী, ভোলানাথপুর, জাঙ্গালীয়া, হরেকৃষ্ণপুর, ঝামা ও দেউলি এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর মাঝ বরাবর বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় চর জেগে ওঠায় মধুমতির স্বাভাবিক স্রোত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গোপালনগর থেকে প্রায় পাল্লা গ্রাম পর্যন্ত এবং আড়মাঝি, হরেকৃষ্ণপুর ও ঝামা এলাকায় জেগে ওঠা চরগুলোর কারণে নদীর স্রোতের চাপ তীরের দিকে বেশি পড়ছে। এতে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
নদীপাড়ের বাসিন্দা রহমত শেখ বলেন, বছরের পর বছর নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে তাদের জীবন কাটছে। নদী যখন ভাঙন শুরু করে, তখন ঘরবাড়ি ও মালামাল সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। একবার ভিটেমাটি হারানোর পর নতুন করে ঘর গড়ে তুললেও পরের বছর আবার ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরেক নদীপাড়ের বাসিন্দা নজরুল ইসলামের ভাষ্য, মধুমতির ভাঙনে শুধু ঘরবাড়িই নয়, ফসলি জমি ও গাছপালাও নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। এতে মানুষের বসবাস ও জীবিকা দুটোই হুমকির মুখে পড়েছে। সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি নদীর স্রোতের গতিপথ বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে গত এক মাস ধরে টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নদীর পাড় ভেঙে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীর পানি কমে ভাটার টান বাড়লে ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নদীতীরবর্তী পরিবারগুলো।