এর আগে গত ১১ এপ্রিল রাজধানীর পল্লবীতে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হাতে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন শামীম (৪০)। সেদিনই তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার এক মাস পর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। এতে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর অসহায়ত্বে পতিত হয়েছে তার পুরো পরিবার। সেই সঙ্গে তিন সন্তানকে নিয়ে হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন স্ত্রী সুমি আক্তার। কিভাবে সংসার চালাবেন, সন্তানদের ভরণ-পোষণ করবেন- সেই চিন্তা পিছু ছাড়ছে না সুমি আক্তারের।
নিহতের স্ত্রী সুমি আক্তার জানান, তাদের বাসা মিরপুর-১০ এর বিহারি ক্যাম্পের এ ব্লকে। গত ১১ এপ্রিল তার স্বামী রিকশা চালিয়ে দুপুরে খাবার খেতে বাসায় ফেরেন। তখন তার ছেলে বিরিয়ানি খেতে চাইলে শামীম বিরিয়ানি কিনতে বাইরে যান। বেনারসি পল্লীর মসজিদের সামনে পৌঁছালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বাহুবলি ও তৌহিদসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে তারা শামীমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শামীমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করান। পরবর্তীতে সেখান থেকে কয়েকটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। সবশেষ অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার আবার ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই রবিবার দিবাগত রাতে মারা যান তার স্বামী।
ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার (৪ এপ্রিল) সকালে শামীমের মরদেহ নেওয়া হয় হাসপাতালের মর্গে। মর্গের সামনে বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেই যাচ্ছেন সুমি আক্তার। সঙ্গে সন্তানরাও। স্বজনরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু কোন সন্ত্বনার ভাষায়ই যেন সুমি আক্তার ও তার সন্তানদের আশ্বস্ত করতে পারছিল না। কেননা, কোনভাবেই সুমি আক্তার তার স্বামীকে আর ফিরে পাবেন না। পরশমাখা হাতের স্পর্শ পাবে না সন্তানরা।
হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে স্বামী হত্যার বিচার চান সুমি আক্তার। আর বলতে থাকেন, আমি কি করবো। আমার সন্তানদের কি হবে। কিভাবে ওদের মানুষ করবো...।
পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহান মোল্লা বলেন, ঘটনার দিন শামীম স্থানীয় কামালের বিরিয়ানি হাউজে বিরিয়ানি আনতে যান। এসময় এজাহারভুক্ত চার আসামি তার গতিরোধ করে এবং পকেটে থাকা প্রায় তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নিতে চায়। এসময় শামীম বাঁধা দিলে তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই শামীমের স্ত্রী চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি বাহুবলি ও তৌহিতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কি না জানা নেই। তবে তাদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে শুনানি। রিমান্ডে এনে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে শামীমের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় বিহারী ক্যাম্পে। শামীম স্থানীয় এবং বিহারি। সেখানেই তার মরদহে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ক্যাম্পের বাসিন্দারা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।