কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, শিগগিরই কৃষকদের নিয়ে বসে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিকে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলায় গত মৌসুমে ৫ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। এসব জমি থেকে আলু উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯০০ মেট্রিক টন। মৌসুমের শুরুতে দাম কম থাকায় বেশি লাভের আশায় এবং সামনের মৌসুমে চাষাবাদের জন্য কৃষকরা প্রতি বছরই কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখেন। জেলায় সরকারি দুটি আলু বীজ হিমাগারে মাত্র ৩ হাজার মেট্রিক টন বীজ আলু রাখা যায়। এজন্য কৃষকদের ভরসা জেলার বিসিক শিল্পনগরীতে স্থাপিত একমাত্র বেসরকারি তাজ কোল্ড স্টোরেজ। যেটির ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন বা ১ লাখ ৭৩ হাজার বস্তা। এই কোল্ড স্টোরেজে বস্তাপ্রতি ৩৬০ টাকায় নভেম্বর মাস পর্যন্ত বীজ ও খাবারের আলু রাখতে পারেন কৃষকরা। শেরপুরের বাইরেও আশপাশের জেলার নিকটবর্তী উপজেলা থেকেও আসে আলু।
গেল মৌসুমে কৃষকরা লাভের আশা নিয়ে আলু রাখলেও গত ১৪ জুলাই কোল্ড স্টোরেজের রেফ্রিজারেশন ইউনিটের পাইপ ফেটে গিয়ে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হওয়া শুরু করে। প্রথমে কোল্ড স্টোরেজের ফোরম্যান আব্দুল মান্নান ও তার সহকারীরা সেটি ঠিক করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই কোল্ড স্টোরেজের তিনটি চেম্বারের মধ্যে দুই নম্বর চেম্বারে থাকা প্রায় ৫৭ হাজার বস্তা আলু পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। যা পরিমাণে প্রায় ৩ হাজার ১শ টনেরও বেশি। ঘটনাটি জানাজানি শুরু হলে রোববার দুপুরে কৃষকরা ছুটে আসেন কোল্ড স্টোরেজে। শুরু করেন বিক্ষোভ। বীজ আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের মাথায় হাত পড়েছে। কিভাবে সামনের মৌসুমে আলুর আবাদ করবেন সেই চিন্তায় দিশেহারা তারা।
সদর উপজেলার হেরুয়া গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, তিনি আগামী মৌসুমে চাষাবাদের জন্য ৫১ বস্তা বীজ আলু রেখেছিলেন। কিন্তু গ্যাসের কারণে সবগুলো আলু পঁচে গেছে। টাকা দিয়ে কোল্ড স্টোরেজে আলু রেখেও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন কিভাবে আলুর চাষ করবেন সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার মতোই পার্শ্ববর্তী লতারিয়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন, আব্দুস সালাম, আনোয়ার হোসেনসহ অনেক কৃষকেরই একই অবস্থা। এদিকে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন আলু ব্যবসায়ীরাও।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল গণি বলেন, তার ১ হাজার ৬৪০ বস্তা দেশি আলু একেবারে পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুরোপুরি হিসাব করার সাহসও তিনি পাচ্ছেন না।
ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনাবশত পাইপ ফেটে গিয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক হয়ে ৫৭ হাজার বস্তা আলু নষ্ট হয়েছে। এ ঘটনায় আগামী বৃহস্পতিবার কৃষক ও মজুতদারসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে বসে আলোচনা করে তাদের সাথে উপযুক্ত একটি সিদ্ধান্তে আসব।
এদিকে নষ্ট আলু বাজারে গিয়ে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরির শঙ্কায় ইতোমধ্যে আলুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। একইসাথে কোল্ড স্টোরেজের ক্ষতিগ্রস্ত চেম্বার পরিদর্শন করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক।
ওই সময় তিনি জানান, কোল্ড স্টোরেজের গ্যাস লিকেজের ঘটনাটি জানার পর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আলুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করবে। ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।