রোববার (২০ জুলাই) রাত ১টায় আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ শুরু হওয়ার অনেক আগেই সরকারি আজিজুল হক কলেজ চত্বর, চেলোপাড়া শাপলা চত্বর, সেউজগাড়ী মোড়, ডালপট্টি, মধুবন সিনেপ্লেক্স, মমইন মুভি থিয়েটার, খান্দার মোড়, বেজোড়া ঘাট, কলোনি বাজার ও মাটিডালি মোড়সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে বড় এলইডি পর্দার সামনে উপচে পড়ে দর্শকদের ভিড়। শুধু শহর নয়, গ্রামাঞ্চলেও বিভিন্ন স্থানে বড়পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো।
কারও গায়ে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি, কারও হাতে স্পেনের লাল-হলুদ পতাকা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ একাই হাজির হয়েছেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের শেষ লড়াই উপভোগ করতে। খেলা শুরু হতেই প্রতিটি আক্রমণ, প্রতিটি গোলের সুযোগ আর প্রতিটি রক্ষণভাগের লড়াইয়ে দর্শকদের আবেগ যেন ওঠানামা করতে থাকে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
সরকারি আজিজুল হক কলেজ চত্বরে খেলা দেখতে আসা শাকিল আহমেদ বলেন, “বিশ্বকাপের ফাইনাল হাজারো মানুষের সঙ্গে বড়পর্দায় দেখার অনুভূতি অন্যরকম। মনে হচ্ছে, যেন স্টেডিয়ামেই বসে খেলা দেখছি।”
নারী দর্শক রুমানা আক্তার বলেন, “ফুটবল আমাদের কাছে শুধু খেলা নয়, এটি আবেগ। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে একসঙ্গে খেলা দেখতে আসার আনন্দই আলাদা। জয়-পরাজয়ের চেয়ে ভালো একটি ম্যাচ দেখাই আমাদের প্রত্যাশা।”
জলেশ্বরীতলা এলাকার আর্জেন্টিনা সমর্থক সুজিত জয়সোয়াল বলেন, “মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা এবারও দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে। স্পেন শক্তিশালী দল হলেও আমরা বিশ্বাস করি, শেষ হাসিটা আর্জেন্টিনাই হাসবে।”
অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থক পরিমল প্রদাস রাজ ও আব্দুল আওয়াল বলেন, “ব্রাজিল না থাকলেও আমরা ফাইনাল উপভোগ করছি। স্পেনের গতি ও দলগত ফুটবল আর্জেন্টিনাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাবে বলেই আমরা স্পেনকে সমর্থন করছি।”
ফাইনাল ঘিরে মধ্যরাতেও বগুড়ার শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই ছিল উৎসবের আবহ। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে বড়পর্দার সামনে তৈরি হয় এক অনন্য মিলনমেলা। রঙিন পতাকা, প্রিয় দলের জার্সি, বাঁশির সুর, উচ্ছ্বাস আর করতালিতে প্রমাণ মিলেছে—বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু একটি ম্যাচ নয়, এটি বগুড়ার মানুষের জন্য ছিল এক রাতের সামষ্টিক উৎসব, যেখানে ফুটবলই হয়ে উঠেছিল সবার একমাত্র পরিচয়।