বঙ্গোপসাগরে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় নিরাপত্তার স্বার্থে অধিকাংশ ট্রলার ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে ঘাটে সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রয়েছে মাছ ধরার ট্রলার। কর্মহীন এবং অলস সময় পার করছেন জেলেরা। অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তা যেন তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।
আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবারও সাগরে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন উপকূলের জেলেরা। তাদের বিশ্বাস, প্রকৃতি সহায় হলে সাগর আবারও মাছে ভরে উঠবে, আর ফিরে আসবে জীবিকার চাকা। ততদিন পর্যন্ত প্রকৃতির ওপর ভরসা রেখেই দিন গুনছেন তারা।
বিএফডিসি সংলগ্ন পাথরঘাটা নতুন বাজার খালে নোঙর করা ট্রলারের মাসুম, কবির, মোস্তফাসহ একাধিক মাঝির সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার সময় আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেকেই ঋণ করে সংসার চালিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা ছিল। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে আবারও সাগরে যেতে না পারায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
মাসুম মাঝি বলেন, “অনেক আশা নিয়ে সাগরে গিয়েছিলাম। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় ফিরে আসতে হয়েছে। এখন ট্রলার ঘাটে বাঁধা। কবে আবার সাগরে যেতে পারব, সেটাই জানি না।”
এদিকে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বার্তায় জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তর উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে। এ অবস্থায় ট্রলার, মাছ ধরার নৌকা এবং অন্যান্য নৌযানের সমুদ্রে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলার বা নৌযানকে মাছ ধরা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্তমানে সমুদ্রে অবস্থানরত সকল ট্রলার, মাছ ধরার নৌকা ও অন্যান্য নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নৌযান ও ট্রলারের মালিকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর সাগরে গিয়েছিলেন অসংখ্য ট্রলার। কিন্তু দুএকদিন পরই সাগর উত্তাল থাকায় সাগর থেকে খালি হাতেই কূলে ফিরেন। আবার যখন যাওয়ার সময় হলো তখন আমার ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত। এ অবস্থায় জেলেরা খুব কষ্টে রয়েছে।
উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, দুর্যোগের সাথে জেলেদের জীবন পরস্পর সম্পর্কিত। উপকূলের জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোন সরকারকেই তেমন ভাবতে দেখিনি। এসডিজি লক্ষমাত্রা অর্জনেও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ছোটখাটো দুর্যোগ হলেও জেলেদের জীবনের ঝুঁকি থাকে। সাগরগামী ট্রলারে যথাযথ নিরাপত্তা সামগ্রী দেয়া বাধ্যতামূলক থাকা সত্ত্বেও অনেক ট্রলারের মালিক তা মানে না। এ জন্য সরকারসহ সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। জেলেদের প্রণোদনাও বাড়াতে হবে।