তবে মিডিয়া রিপোর্টগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পেত্রো ব্যক্তিগতভাবে এই তদন্তের মূল লক্ষ্য নন। বরং লাতিন আমেরিকায় মাদক চোরাচালান কেন্দ্রিক তদন্তের অংশ হিসেবে তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার বিকেলেই এক বিবৃতিতে পেত্রো এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, কলম্বিয়াতে মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিয়ে একটি তদন্তও নেই, তার কারণ খুব সহজ: আমি জীবনে কখনও কোনও মাদক পাচারকারীর সঙ্গে কথা বলিনি।
তিনি আরও জানান যে, তিনি তার নির্বাচনি প্রচারণার ম্যানেজারদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন কোনও ব্যাংকার বা মাদক পাচারকারীর কাছ থেকে অনুদান গ্রহণ করা না হয়। পেত্রো মনে করেন, এই মার্কিন তদন্ত শেষ পর্যন্ত তাকে নির্দোষ প্রমাণ করবে। উল্টো তিনি কলম্বিয়ার ডানপন্থি বিরোধীদের এই বিতর্কের জন্য দায়ী করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই কার্যক্রম আমাকে কলম্বিয়ার অতি-ডানপন্থিদের অভিযোগ খণ্ডন করতে সাহায্য করবে, যারা আসলে নিজেরাই মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
প্রেসিডেন্ট পেত্রোর বিরুদ্ধে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি এবং তদন্তগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা এই খবরের সময়কালকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন। আগামী ৩১ মে কলম্বিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নিরাপত্তা থিংক ট্যাংক কলম্বিয়া রিস্ক অ্যানালাইসিস-এর পরিচালক সার্জিও গুজমান বলেন, প্রথম দফার নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে এমনটি ঘটলে একে নির্বাচনি হস্তক্ষেপ বলা যেত। এটি আসলে একটি সতর্কবার্তা যে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।
পেত্রো কলম্বিয়ার প্রথম বামপন্থি প্রেসিডেন্ট। সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচন করতে পারছেন না। তবে এই নির্বাচনকে তার চার বছরের শাসনের ওপর একটি গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেত্রোর জোট হিস্টোরিক প্যাক্ট-এর প্রার্থী ইভান সেপেদা বর্তমানে জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই পেত্রোর সঙ্গে তার সম্পর্ক তিক্ত। জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর এই বিরোধ চরমে পৌঁছায়। এমনকি কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেছিলেন, এটি আমার কাছে ভালোই মনে হচ্ছে।
উত্তেজনা কমাতে ফেব্রুয়ারির শুরুতে পেত্রো হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে পেত্রোর কট্টর সমালোচক রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনোও উপস্থিত ছিলেন। গুজমান মনে করেন, মোরেনোর উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল পেত্রো যেন নির্বাচনে বেশি প্রভাব না খাটান।
বিশ্বের বৃহত্তম কোকেন উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে কলম্বিয়ার মাদক নির্মূল নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। ট্রাম্প মনে করেন পেত্রোর নীতি অপরাধীদের প্রতি নমনীয়। অন্যদিকে, পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক কৌশলকে হত্যাকাণ্ডের সমতুল্য বলে নিন্দা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ক্যারিবিয়ান এবং প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৫৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কলম্বিয়ার নাগরিকও রয়েছেন।