একই রাতে পৃথক অভিযানে বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি রাহুল কবিরাজকেও গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবি বগুড়ার এসআই ফজলুল হক ও এসআই ইফ্তেখাইরুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ১৯ আগস্ট রাতে গাজীপুরের আশুলিয়ার কাশিমপুর ও ঢাকা মহানগরের কামরাঙ্গীরচর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ককটেল হাতে ডাকাতি, ১১ মামলার আসামি
ডিবি জানায়, গাবতলী উপজেলার মাঝবাড়ি এলাকার মৃত লইমুদ্দিনের ছেলে বাদশা মিয়া (৪৬) ডাকাতি, হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাসহ ১১ মামলার পলাতক আসামি। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে আশুলিয়া থানার কাশিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে বাদশা তার সহযোগীদের নিয়ে গাবতলী থানার আকন্দপাড়া গ্রামের ভক্ত রাম বিশ্বাসের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে প্রবেশ করেন। বাড়ির লোকজনকে মারধর ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। পরে সিন্দুক থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা লুট করে তারা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর গাবতলীর ছোট ইটালি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী নাসিমা খাতুনের বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশ বলছে, ওই ঘটনার পর বাদশা পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৪৫টি ককটেল ও ককটেল তৈরির বিপুল পরিমাণ উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
ডিবির তথ্যমতে, এর আগেও গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাদশা। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাসহ একাধিক মামলা তদন্ত ও বিচারাধীন রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুকুরের মালিকানা নিয়ে বিরোধ, ছুরিকাঘাতে যুবদল নেতা নিহত
অন্যদিকে, একই রাতে ঢাকা মহানগরের কামরাঙ্গীরচর থানার মুন্সিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাহুল কবিরাজকে (২৪) গ্রেপ্তার করে ডিবির আরেকটি দল। তিনি কাহালু উপজেলার পাল্লাপাড়া গ্রামের ইমদাদুল হকের ছেলে।
ডিবি জানায়, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কাহালু থানার মাগুরা এলাকায় একটি পুকুরের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বাক্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাহুল কবিরাজ তার সহযোগীদের নিয়ে যুবদল নেতা রাহুলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই রাহুল কবিরাজ পলাতক ছিলেন।
ডিবির অভিযানে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই আসামিও ধরা পড়েন। তাকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডিবি বগুড়া বলছে, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা দুই মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।