সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১৬টি লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পেরেছে। আর দেশের মোট ৫২টি ব্যাংকের মধ্যে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭টিতে। অর্থাৎ, বেশিরভাগ ব্যাংকই লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতে গত বছরের ১৩ মার্চ নতুন নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়, কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ বা তার বেশি হলে তারা লভ্যাংশ দিতে পারবে না। বর্তমানে ২৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৯ শতাংশেরও বেশি, যার মধ্যে ১৭টি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। এছাড়া মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি থাকলেও লভ্যাংশ ঘোষণার সুযোগ নেই।
গভর্নর পরিবর্তনের পর এই কঠোর নীতিতে শিথিলতা আসবে কি না—এ নিয়ে আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আগের অবস্থানেই অটল থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
শুধু দুর্বল ব্যাংক নয়, ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও আরোপ করা হয়েছে সীমা। কোনো ব্যাংক পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ বা নিট মুনাফার ৫০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিতে পারবে না—এমন বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে।
তবে সংকটের মধ্যেও কিছু ব্যাংক ভালো করেছে। বেসরকারি খাতের ছয়টি ব্যাংক সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে—এর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক, সিটি, পূবালী, ডাচ্-বাংলা, প্রাইম ও উত্তরা ব্যাংক। এছাড়া যমুনা ব্যাংক ২৯ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংক ২৮ শতাংশ, এনসিসি ২৫ শতাংশসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক বিভিন্ন হারে লভ্যাংশ দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশসহ একাধিক বেসরকারি ব্যাংক কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। আইএফআইসি, ইউসিবি, মার্কেন্টাইল, এবি, আল-আরাফাহ ইসলামীসহ বেশ কিছু ব্যাংক এই তালিকায় রয়েছে। একীভূত হয়ে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়া কয়েকটি ব্যাংকও লভ্যাংশ দিতে পারেনি।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়—এমন কিছু ব্যাংকও লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালীসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক সরকারকে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, খেলাপি ঋণ ও আর্থিক দুর্বলতার চাপ সামাল দিতে গিয়ে ব্যাংক খাতে লভ্যাংশ বিতরণে বড় ধরনের সংকোচন এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নীতির ফলে স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হলেও দীর্ঘমেয়াদে খাতটির স্থিতিশীলতা বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।