ট্রাম্প বলেন, তিনি চাইলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ‘সবাইকে এক নিমিষেই নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে আলোচনা করার মতো আর কেউ থাকবে না। তিনি দাফন প্রক্রিয়ায় ইরানিদের কান্না দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তিনি ভেবেছিলেন মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে।
ট্রাম্পের এ বক্তব্যের জবাবে আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ‘মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। তোমরা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছ, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তোমরা একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছ, যার সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তোমরা এসব বোঝো না, কারণ তোমাদের সভ্যতা, ইতিহাস বা সম্মান কোনোটিই নেই।’
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অভিযানের প্রথম দিনই তেহরানে স্ত্রী, পুত্রবধূ ও নাতনিসহ নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, যিনি টানা ৩৬ বছর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় খামেনির ছেলে এবং ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
দেশটিতে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিকভাবে খামেনির দাফন কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কোম ও মাশহাদে বড় শোভাযাত্রা এবং ইরাকের বিভিন্ন শহরে নানা কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংঘাত বন্ধে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এ দাফন প্রক্রিয়ার একটি প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। ইরানের শাসকগোষ্ঠী এটিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনসমর্থন ও প্রকাশ্য আনুগত্যের প্রদর্শন হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে তারা এটিকে দেশটির বিপ্লবী চেতনা এখনও অটুট থাকার প্রমাণ হিসেবেও উপস্থাপন করছে।
কোম শহরের জুমার নামাজের ইমাম আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ সাইদি বলেন, শহীদ নেতা ও অন্যান্য শহীদদের জানাজায় বিপুল জনসমাগম ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের আরেকটি গণরায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
আয়াতুল্লাহ খামেনি শুধু একজন রাষ্ট্রপ্রধানই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী শিয়া ধর্মগুরুও। ইরাক, পাকিস্তান, লেবাননসহ বিভিন্ন দেশের বহু শিয়া মুসলমান তাঁকে অনুসরণ করতেন। এসব দেশের শিয়া সমাবেশে প্রায়ই তাঁর প্রতিকৃতি দেখা যেত।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ খামেনির দাফন প্রক্রিয়া উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের উপস্থিতির মাধ্যমে ইরানের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় রচিত হবে। এর মাধ্যমে জাতির প্রতিশোধের স্পৃহা সমগ্র বিশ্বের কাছে প্রতিধ্বনিত হবে।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সব জাতি, ধর্ম ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ইরানিদের দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ব্যাপক উপস্থিতি সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত জবাব হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের কাছে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, ইরানি জাতি তার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।’
সূত্র: আল জাজিরা