প্রতিদিন যেখানে আমরা এমনিতেই অতিরিক্ত কাজের চাপ আর লক্ষ লক্ষ নোটিফিকেশন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি, সেখানে এই ‘এনার্জি ভ্যাম্পায়ার’ বা শক্তি শোষকদের আমরা একদমই চাই না। এরা যে খারাপ মানুষ, তা কিন্তু নয়, এরা এমন মানুষ যাদের উপস্থিতি আপনার উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। কেউ যে আপনার শক্তি নষ্ট করছে, তার লক্ষণগুলো কীভাবে চিনবেন এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, কীভাবে নিজের শক্তি ফিরে পাবেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক-
আড্ডার পরের ঘোর
যদি একটি সাধারণ ফোন কলের পরেই আপনার তিন ঘণ্টার ঘুমের প্রয়োজন হয়, তবে এটিই প্রথম বিপদ সংকেত। এটি শুধু শারীরিক ক্লান্তি নয়; এটি এক গভীর, মানসিক অবসাদ। আপনি খিটখিটে বা অদ্ভুতভাবে শূন্য বোধ করেন, কারণ গত এক ঘণ্টা ধরে আপনি অবচেতনভাবে তাদের মানসিক শূন্যস্থান পূরণ করে চলেছেন।
সমাধান: নিজের মনের অবস্থা যাচাই করা শুরু করুন। এক সপ্তাহ ধরে, নির্দিষ্ট কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলার আগে ও পরে আপনার কেমন লাগছে তা মনে মনে খেয়াল করুন। যদি আপনার অনুভূতি সবসময় খারাপ হতে থাকে, তবে একটি টাইমার সেট করার সময় এসেছে। বলার চেষ্টা করুন, আজ কথা বলার জন্য আমার কাছে মাত্র ৫ মিনিট সময় আছে, এবং তা মেনে চলুন। আপনার সময় একটি সীমিত সম্পদ, এক জায়গায় সবটা ব্যয় করবেন না।
আমি এবং আমার
আপনি এই ধরনের মানুষ চেনেন, তারা তাদের ব্রেকআপ, বিরক্তিকর বস বা সাম্প্রতিক কোনো সাফল্য নিয়ে চল্লিশ মিনিট কথা বলতে পারে, কিন্তু যেই মুহূর্তে আপনি কোনো গল্প বলতে যাবেন, তারা হঠাৎ করেই যেতে হবে বলে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে আপনি তাদের বন্ধু নন; আপনি একজন অবৈতনিক দর্শক।
সমাধান: প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন। আলতো করে বলুন, শুনে তো বেশ কঠিন মনে হচ্ছে, ‘ভুলে যাওয়ার আগে বলি, আমিও আপনাকে আমার কিছু কথা বলতে চেয়েছিলাম।’ যদি তারা আপনাকে সরাসরি উপেক্ষা করে কথা বলে, তবে এটিকে একটি ইঙ্গিত হিসেবে নিন। এমন একজনের কথা শোনার পাত্র হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, যে আপনার জীবনে কী ঘটছে সে সম্পর্কে কিছুই জানে না।
অবিরাম নেতিবাচকতা
কিছু মানুষ লটারি জিতলেও কর নিয়ে অভিযোগ করতে পারে। তাদের সঙ্গে প্রতিটি কথোপকথনই যেন পৃথিবীর সমস্ত সমস্যা নিয়ে গভীর আলোচনা। এই হতাশা ও বিষণ্ণতার শক্তি সংক্রামক; এটি কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং আপনাকে এমন এক বোঝা বহন করতে বাধ্য করে যা আপনার বহন করার কথা নয়।
সমাধান: আগুনে ঘি ঢালবেন না। যখন তারা অভিযোগ করে, তখন একটি নিরপেক্ষ উত্তর দিন, ‘ব্যাপারটা কঠিন, তুমি এটা নিয়ে কী করবে?’ সমাধানের ভার তাদের উপর ফিরিয়ে দিন। যদি তারা শুধু সারাজীবন ক্ষোভ প্রকাশ করতে চায়, তবে সুন্দরভাবে কথোপকথন থেকে বেরিয়ে আসুন।
ড্রামা কুইন
কিছু মানুষের জন্য, জীবন হলো অবিরাম জরুরি অবস্থার একটি ধারা। সবসময় একটি নতুন ঝগড়া, কেলেঙ্কারি বা নাটকীয় ভুল বোঝাবুঝি লেগেই থাকে।
সমাধান: আপনি তাদের জন্য বিরক্তিকর হয়ে উঠুন। ‘গ্রে রক’ পদ্ধতি অনুসরণ করুন এবং যথাসম্ভব বিরক্তিকর ও প্রতিক্রিয়াহীন হয়ে উঠুন। যখন আপনি তাদের নাটকের জ্বালানি সরবরাহ করা বন্ধ করবেন, তখন তারা অন্যত্র আরও প্রতিক্রিয়াশীল দর্শকের সন্ধান করবে।
ইমোশনাল হ্যাংওভার
এটিই চূড়ান্ত আত্ম-পরীক্ষা। যদি কোনো আলাপচারিতার পর আপনার মধ্যে উদ্বেগ বা নিজেকে হীন মনে হয়, তাহলে বুঝতে হবে কিছু একটা ভুল হচ্ছে।
সমাধান: নিজের অন্তরের কথা শুনুন; যদি আপনার শরীর আপনাকে বলে যে একটি সম্পর্ক বিষাক্ত, তাহলে সেটি বিষাক্তই। যে আপনাকে কষ্ট দেয়, তার থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য আপনার কোনো যৌক্তিক কারণের প্রয়োজন নেই। আপনার শক্তি নষ্ট করা মানুষের পরিবর্তে ভালোবাসার উষ্ণতা ছড়ানো মানুষ দিয়ে নিজেকে ঘিরে রাখুন।