গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করেন, তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৫% বেশি এবং হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭% বেশি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। দীর্ঘ সময় কাজের চাপ শুধু শারীরিকই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।
করোনা মহামারির পর ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সংস্কৃতির কারণে কাজের সময় আরও বেড়েছে। দীর্ঘ সময় কাজ করলে ঘুমের ঘাটতি, অনিয়মিত খাবার ও কম ব্যায়ামের ফলে জীবনযাত্রার মানও কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, টানা ১৭ ঘণ্টা জেগে থাকলে কাজের দক্ষতা প্রায় মদ্যপ ব্যক্তির মতো কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত কাজ উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বদলে কমিয়ে দেয়, শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তাই কাজের ও ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে সীমারেখা রাখা, পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সময়ে পুরোপুরি কাজ থেকে বিরতি নেওয়া জরুরি।
সপ্তাহে চারদিন কাজের মডেল গ্রহণ করাও কর্মীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে। অতিরিক্ত কাজ কখনোই সাফল্যের শর্টকাট নয়; বরং সচেতন হওয়া ও সময়মতো বিশ্রাম নেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।