কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী'র সভাপতিত্বে এ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপক কমান্ডার ফয়েজ আল করিম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হায়দার হোসেন, ব্যবসায়ী নেতা আব্দুর শুক্কুর এবং জেলে প্রতিনিধিরা।
সভায় মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলে প্রতিনিধিরা জানান, এ বছর বিলম্বিত বৃষ্টিপাত, হ্রদের ঘোলা পানি এবং বিভিন্ন স্থানে তীব্র চোরা স্রোতের কারণে বর্তমানে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও আহরণ ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণে নিষেধাজ্ঞা আরও অন্তত দুই সপ্তাহ বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে বিএফডিসি, মৎস্য বিভাগ এবং বিএফআরআইয়ের প্রতিনিধিরা জানান, কাপ্তাই হ্রদে অবমুক্ত কার্পজাতীয় মাছের পোনা এবং প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত ছোট মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রজনন সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন। এ বিষয়ে কারিগরি মতামত বিবেচনা করে সভায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বঘোষিত ১ আগস্টের পরিবর্তে আগামী ১০ আগস্ট মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্তে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, “কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, অবমুক্ত কার্পজাতীয় মাছের পোনার স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং হ্রদের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে গত ২৫ মে মধ্যরাত থেকে হ্রদে মাছ শিকার, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও কারিগরি সুপারিশের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট মধ্যরাত থেকে জেলেরা পুনরায় কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ করতে পারবেন।”
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নিষেধাজ্ঞার অতিরিক্ত সময়ের ফলে হ্রদের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জেলে, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় অর্থনীতি ইতিবাচকভাবে উপকৃত হবে। #