২০২২ সালে টাটা গ্রুপের মালিকানায় যাওয়া ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিমান সংস্থা বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। সবচেয়ে বেশি কাটছাঁট হবে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরের মতো দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে, যেখানে জ্বালানি খরচ সবচেয়ে বেশি।
একজন অজ্ঞাত এয়ার ইন্ডিয়া কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, বর্তমানে অনেক ফ্লাইটে পরিচালন ব্যয় ওঠানো যাচ্ছে না। প্রতিবেদনে বলা হয়, কোম্পানিটি ইতোমধ্যে প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার লোকসানে রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সামরিক উত্তেজনার পর পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তাদের আর্থিক অবস্থায় বড় ধাক্কা লাগে।
এই আকাশসীমা বন্ধের কারণে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
প্রতিবেদনটি এমন সময়ে এসেছে, যখন ভারতের বিমান সংস্থাগুলো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ব্যবসায়িক চাপ মোকাবিলায় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছে।
শুক্রবার ভারত সরকার আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য জেট জ্বালানির (Jet Fuel) দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে দেশীয় বিমান সংস্থার ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এর আগে এপ্রিল মাসেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জ্বালানি দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর দেশীয় রুটে তুলনামূলক কম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানিগুলো দেশীয় রুটে দাম বৃদ্ধির সীমা ২৫ শতাংশের মধ্যে রেখেছিল।
বিমান সংস্থার মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই জ্বালানি খরচ। ফলে সামান্য দাম বাড়লেও লাভজনকতা কমে যায় এবং টিকিটের দাম বেড়ে যায়।
ভারতে জেট জ্বালানির দাম মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে প্রতি কিলোলিটারে ২,১৪০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ ১,১৮০ ডলারের তুলনায় অনেক বেশি।
বিশ্বব্যাপী জেট জ্বালানির গড় দাম প্রতি ব্যারেল ১৭৯ ডলার, যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ৯৯ ডলার থেকে ৮০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে এপ্রিল ২৪ পর্যন্ত ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর ১৫ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য দৈনিক মাত্র ৫০ থেকে ৫৫টি ফ্লাইট চলছে, যেখানে আগে প্রায় ২০০টি ফ্লাইট চলত।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বাজার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই খাত সরাসরি ৩ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ৭৭ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করে।
সূত্র: আরটি