রবিবার(১৬ আগস্ট) জুলাই যোদ্ধা আল আমিন গুপ্ত বাহিনীরদের বিচারের দাবী জানায়।
জুলাই যোদ্ধা আল আমিন বলেন,চব্বিশের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদের পতনের পর যখন সারা দেশ আনন্দে ভাসছিল, তখন বিজয় মিছিল শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় এক আওয়ামী কাউন্সিলর ও যুবলীগের ক্যাডারদের নৃশংস ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত হই আমি। এই হামলায় আমার ডান হাতের কবজি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাথায় ও শরীরে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ দিন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা নেওয়ার পর সরকারি স্তরের নিবিড় তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলনে পঙ্গুত্ব বরণকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে আমি আবেগঘন ও সাহসী বক্তব্যে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করি। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সহানুভূতি ও রাজনৈতিক আলোকবর্তিকায় আসার পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে শুরু হয় এক গভীর ষড়যন্ত্র। একটি কুচক্রী মহল, গুপ্ত বাহিনী ও অনলাইনে সক্রিয় সংগঠিত 'বট বাহিনী' সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে নিয়ে অপপ্রচার শুরু করে। আমি ভিন্ন কোনো ঘটনায় পঙ্গু হইনি। আমি প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক হিংসা, ঈর্ষা এবং ৪ জুলাই ঢাকায় এক আলোচনা সভায় জামায়াতের বিরুদ্ধে আল-আমিনের বক্তব্য দেওয়ার প্রেক্ষাপট থেকেই এই ভিত্তিহীন অপপ্রচারের সূত্রপাত।
এই প্রোপাগান্ডার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ময়মনসিংহের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং ছাত্র প্রতিনিধি মাজহারুল ইসলাম স্পষ্ট জানান যে, আল-আমিন জুলাই আন্দোলনে শুরু থেকেই অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন আল আমীন একজন সম্মুখ সারির জুলাই যোদ্ধা। ২৪ এর গনঅভ্যুত্থানে তার অবদান জাতি সারাজীবন মনে রাখবে। ময়মনসিংহ সদর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদও এই অপপ্রচারের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, সরকারি প্রশাসনিক তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরেই আল-আমিন ‘জুলাই যোদ্ধা’র মর্যাদা ও গেজেট লাভ করেছেন। একটি পক্ষ আল-আমিনের ত্যাগকে খাটো করে বিএনপির অভূতপূর্ব অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে সুর মিলিয়ে এই নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। সকল প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নিশ্চিত করে যে, জীবন বাজি রেখে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করা এই তরুণ একজন প্রকৃত ‘জুলাই হিরো’, যাকে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার দিয়ে বিতর্কিত করা সম্ভব নয়।