রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এ-প্লাস সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন এক রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে অপ্রতীমের মা-বাবা বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে আহাজারি করছেন। তারা জানেন না সন্তানকে ছাড়া কীভাবে তারা বাঁচবেন।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হয়েছে এবং দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। অথচ প্রতিটি পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে জনগণকে বসবাস করতে হচ্ছে। জনগণের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করে সরকার কেন তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে—প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে, তা দেখে মনে হচ্ছে আমরা রোহিঙ্গা বা বাইরের কোনো দেশ থেকে বেড়াতে এসেছি। গত সাত মাসে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশকে পাওয়া গেলেও দুই হাজার শিশু এখনো পুরোপুরি নিখোঁজ রয়েছে। সরকারের নথিভুক্তের বাইরে আরও অনেক শিশু নিখোঁজ হচ্ছে।’
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে শিবির সভাপতি বলেন, ‘সংবিধানের সংস্কার করছেন না, জনগণের দাবি মানছেন না, গণভোটের আলোকে মৌলিক পরিবর্তনগুলো করছেন না। কেন মানছেন না, সেটার ব্যাখ্যাও আপনারা দিচ্ছেন না। শুধু বলে যাচ্ছেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। কালক্ষেপণ করে সব দপ্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রেখেছেন।’
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণরা এগুলো বোঝে না, তা মনে করার কোনো কারণ নেই। জনগণ সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত হলে পরিস্থিতি কী হয়, তা জুলাইয়ে জনগণ বুঝিয়ে দিয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের আত্মগঠনের পরামর্শ
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার নিয়েও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ তুমি গোলাপের মতো সুবাস ছড়াবে, ততক্ষণ মা-বাবা ও এই সমাজ তোমার প্রশংসা করবে। তাই আত্মগঠনের জন্য ফলাফলের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একাদশ শ্রেণির ফার্স্ট ইয়ারকে রেস্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ারকে ডোন্ট কেয়ার ভাবলে ফলাফল গোল্লায় যাবে। কঠিন অধ্যবসায়ের সঙ্গে পড়াশোনা করে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, বুয়েট, চুয়েট ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির জন্য জাতীয় প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিতে হবে। মেধার সঙ্গে থাকতে হবে সততা, দেশপ্রেম ও দক্ষতা। তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে।’
অনুষ্ঠানে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও উপহার দেওয়া হয়। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামে ছাত্রশিবিরের শহীদ আবিদ বিন ইসলামের পিতা।
এতে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক শামিম হোসেন, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি সম্পাদক এইচ এম আবু মুসা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ফজলুল হক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন। সঞ্চালনা করেন রাকিবুল ইসলাম।