রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন কৌশলের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামোর আওতায় জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে তৃতীয় জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান প্রণয়ন করে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামোতে দাখিল করা হয়েছে।
তৃতীয় জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতায় বা শর্তহীনভাবে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ বা ২৬ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া গেলে শর্তযুক্তভাবে আরও ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বা ৫৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে নিঃসরণ কমাতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদি নিম্ন-নিঃসরণ উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া কার্বন বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করতে একটি সমন্বিত কার্বন বাজার কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।
এই কাঠামোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্বন বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানো, পরিবেশসম্মত উচ্চমানের প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কার্বন ঋণপত্রের লেনদেনের মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।