দাগনভূঞা একাডেমি থেকে পাস করা এই শিক্ষার্থীর কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে বইপত্র, পোশাক, জুতা, ব্যাগ ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের ব্যবস্থা করেছেন জেলা প্রশাসক।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ইসমাইলের হাতে এসব শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম ও শিক্ষার্থীর বাবা মো. সুজন।
এর আগে, ফেনী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ইসমাইলের ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় খরচও জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বহন করা হয়।
ইসমাইলের বাবা মো. সুজন দাগনভূঞা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ফেরি করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন। চার সদস্যের পরিবারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি দুই সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এসএসসিতে কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ-৫ অর্জনের পর ইসমাইলের কলেজে ভর্তি, বই-খাতা ও অন্যান্য শিক্ষা ব্যয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। পরে তিনি দাগনভূঞা ইউএনওকে শিক্ষার্থীর খোঁজ নিতে নির্দেশ দেন।
ইসমাইল জানায়, জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর সহযোগিতায় সে ফেনী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হতে পেরেছে এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণও পেয়েছে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পাশাপাশি মানুষের সেবা করার স্বপ্ন রয়েছে তার।
ইসমাইলের বাবা মো. সুজন বলেন, আমার ছেলে কঠোর পরিশ্রম করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর সহযোগিতায় তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
দাগনভূঞা ইউএনও মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসকের আন্তরিক সহযোগিতায় ইসমাইল কলেজে ভর্তি হয়েছে ও বইপত্রসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ পেয়েছে।
ইসমাইলের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হাট ভোগদিয়া এলাকায়। তবে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে দাগনভূঞা পৌর শহরের বেতুয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছে।