“মানব পাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ ও মোকাবিলা” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই কর্মসূচি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং Ministry of Home Affairs Bangladesh (বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)-এর সহায়তায় বাস্তবায়িত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, অপরাধবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দলীয় কার্যক্রম, উন্মুক্ত আলোচনা এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ফারিদ আহমদ সোবহানী। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মিস রেবেকা খান। অনুষ্ঠানের শুরুতে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। পরবর্তীতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইন অনুষদের ডিন এ.বি.এম. ইমদাদুল হক খান।
কর্মশালার প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করেন ইউএনওডিসি-এর ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অর্ডিনেটর তাসনিম বিনতে করিম। তিনি প্রকল্পের সার্বিক ধারণা এবং মানব পাচার প্রতিরোধে মানবাধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। পরবর্তী অধিবেশন পরিচালনা করেন ইউএনওডিসি-এর আইন প্রয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কাস ভিনিসিয়াস পায়েস, যেখানে মানব পাচার ও অভিবাসী পাচারের মৌলিক ধারণা ব্যাখ্যা করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানব পাচার সেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে দেশের প্রেক্ষাপটে মানব পাচার ও অভিবাসী পাচারের প্রবণতা ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের মানব পাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন ডিন এ.বি.এম. ইমদাদুল হক খান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মানব পাচার ও অভিবাসী পাচার বিষয়ে সম্যক জ্ঞান ও বাস্তব দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা এবং তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। ইউএনওডিসি-এর এই উদ্যোগ তরুণদের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে সচেতন করে তুলতে এবং এসব গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় তাদের সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।