অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মাহবুবুল হক এবং ব্যবসায় ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. গাজী মো. আবু ঈসা নূর।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট বোনাভেঞ্চার ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেসের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মানসুরা নুসরাত।
মূল প্রবন্ধে তিনি একাডেমিক গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব, গবেষণা নকশা ও তথ্য বিশ্লেষণে আধুনিক এআই টুলের ব্যবহার, গবেষণার মানোন্নয়নে এআইয়ের সম্ভাবনা, নৈতিকতা, সীমাবদ্ধতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাকে আরও গতিশীল, তথ্যনির্ভর ও কার্যকর করে তুললেও এর যথাযথ ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, এআইনির্ভর কনটেন্ট তৈরি এবং স্বয়ংক্রিয় উত্তর প্রদানের প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে প্রচলিত শিক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নতুনভাবে পর্যালোচনা ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এআই যেমন শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি এর অপব্যবহার, নৈতিকতা, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং একাডেমিক সততা রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও সামনে এনেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আজ শিক্ষার প্রতিটি স্তরে গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলছে। এটি আর ভবিষ্যতের কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়; বরং শিক্ষা, গবেষণা এবং একাডেমিক কার্যক্রমকে দ্রুত রূপান্তরিত করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি সবসময় নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা এবং উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে একটি আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগার (এআই সেন্টার) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ গবেষণাগারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে এআইভিত্তিক গবেষণা, উদ্ভাবনী প্রকল্প এবং একাডেমিক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. গাজী মো. আবু ঈসা নূর বলেন, ব্যবসায় প্রশাসনসহ সব অনুষদের গবেষণায় এখন প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই নতুন ধারার সঙ্গে পরিচিত করতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। শেষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপকসহ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভাপতি সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।