প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ দীর্ঘদিন ধরে আহমাদিনেজাদকে নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। যদিও একসময় তিনি ইসরায়েলের কঠোর সমালোচক ছিলেন এবং দেশটিকে ধ্বংসের হুমকিও দিয়েছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের লুদোভিকা ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি সম্মেলনকে আহমাদিনেজাদ ও মোসাদের গোপন যোগাযোগের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেখানে মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বার্নিয়া তার সঙ্গে বৈঠক করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদের আবাসন ও বিদেশ সফরের ব্যয় বহন করেছিল। পাশাপাশি গুয়াতেমালা ও হাঙ্গেরিসহ বিভিন্ন স্থানে মোসাদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার একাধিক বৈঠক হয়।
এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর তাকে উদ্ধারের একটি নাটকীয় পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। পরে হামলার বিশৃঙ্খলার মধ্যে মোসাদের এজেন্টরা তাকে একটি গোপন নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
তবে ওই উদ্ধার অভিযানে আহমাদিনেজাদ অসন্তুষ্ট হন এবং ইসরায়েলের সহায়তায় ক্ষমতায় ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে তার আস্থা নষ্ট হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি কীভাবে ওই নিরাপদ স্থান থেকে বের হন, তা স্পষ্ট নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন আহমাদিনেজাদ। পরপর তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বর্তমান ব্যবস্থার অধীনে তার আর ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ নেই।
আহমাদিনেজাদ ঘনিষ্ঠদের কাছে নিজেকে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলতসিনের মতো একজন ‘পরিবর্তনকারী নেতা’ হিসেবে ভাবতেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন, ক্ষমতায় ফিরতে পারলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে পারেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্ষমতা পরিবর্তনের সম্ভাব্য পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরাকের উত্তরাঞ্চলে থাকা ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তেহরানের দিকে অগ্রসর করার একটি পরিকল্পনাও বিবেচনায় ছিল।
তবে ইসরায়েলের সঙ্গে তার কথিত গোপন যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর আহমাদিনেজাদ বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন। ইরানের চারজন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বর্তমানে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাকে আটক করে গৃহবন্দি করে রেখেছে।
তবে এসব দাবির বিষয়ে আহমাদিনেজাদ, ইসরায়েল সরকার বা মোসাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।