গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকা দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, গভর্নর স্পষ্ট করে বলেছেন যে বিগত সরকারের আমলে ব্যাংকটি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি অনুগত ছিল, কিন্তু এখন থেকে সেখানে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না।
বৈঠকে গভর্নর আরও উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংক একসময় দেশের অন্যতম শীর্ষ ও শক্তিশালী ব্যাংক ছিল। তবে মাঝপথে ব্যাংকটিতে সুশাসনের চরম ঘাটতি দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এই সংকট কাটিয়ে ব্যাংকটিকে আবারও আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে এবং এর আর্থিক ভিত্তি মজবুত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের নীতিগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটি থেকে চাকরিচ্যুত কয়েক হাজার কর্মকর্তার পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও, এই সভায় গভর্নর সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি বলে জানা গেছে।
ব্যাংকটির বর্তমান আর্থিক চিত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ২০২৫ সাল জুড়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ইসলামী ব্যাংকের আমানত ও বৈদেশিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের শেষ নাগাদ ব্যাংকটির মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে এক বছরেই বেড়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিং খাতে আমানতের পরিমাণ বর্তমানে ২২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত এক বছরে ব্যাংকটি ৭৬ হাজার কোটি টাকার প্রমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে এবং তাদের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৬০ হাজার কোটি এবং ৩২ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের মোট গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটিতে উন্নীত হয়েছে, যার মধ্যে গত এক বছরেই ৫০ লাখ নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন।