বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহ পক্ষ থেকে আসা হামলার তীব্রতা ও ভিন্নতা বেড়ে যাওয়ায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনটি আরও জানায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অর্থায়নসংক্রান্ত বিরোধের কারণে অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। যদিও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আগেই উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
অর্থ বরাদ্দে বিলম্বের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা সময়মতো বাড়ানো যায়নি। অবশেষে নতুন অবকাঠামো তৈরির পর চলতি বছরের শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ইসরায়েল সরকারের বকেয়া ঋণও বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ সরবরাহকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামের মূল্য পরিশোধে দেরি হচ্ছে।
যদিও ইসরায়েল দাবি করে যে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফলতা প্রায় ৯০ শতাংশ, তবুও ইরান ও হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
একই সঙ্গে ইরানি হামলায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য, যেমন কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বা কোথায় আঘাত করেছে-এসব বিষয়ে কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে ইসরায়েল একাধিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। ইরান ও লেবাননে হামলার পাশাপাশি গাজা ও পশ্চিম তীরেও তাদের বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং সিরিয়ায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
গত এক মাসের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে এক হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এর পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাকসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যা হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।