বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং বেসামরিক স্থাপনায় গত কয়েক দিনের বিমান হামলার পাল্টা জবাবে ভোরে অভিযান শুরু হয়, যা সারাদিনব্যাপী চলেছে। এতে সৌদি আরবের আরিফজান ও আল-খারজ জেলায় মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, বাহরাইনের শেখ ঈসা অঞ্চলের প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, মার্কিন সামরিক জ্বালানি ডিপো, নজরদারি বিমান ও এম-কিউ রিপার কমব্যাট ড্রোনের হ্যাঙ্গার এবং আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন ড্রোনের স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন ডিশ বিধ্বস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলাগুলো ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো—পূর্ব আজারবাইজান, আরদাবিল, গিলান, মাজানদারান ও গোলেস্তান—এর বীর জনতাকে উৎসর্গ করা হয়েছে। অধিকৃত অঞ্চলে অবস্থিত একটি সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং ডেড সি সংলগ্ন ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানাতেও বিধ্বংসী হামলা চালানো হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ যোদ্ধারা মোট ২৩০টি সফল অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ ৮৭টি, ইরাকি ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স গ্রুপ ২৩টি এবং ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ১১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ। স্বৈরাচারী ও আগ্রাসনকারীদের হাত বিচ্ছিন্ন না হওয়া এবং প্রকৃত শান্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিক হত্যার পর ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এ সময় ইরানি সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়, যা প্রতিশোধ হিসেবে আইআরজিসি পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।