৭৩ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক হওয়া ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় তাদের দীর্ঘ মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইমরান খানকে কথিত একাকী কারাবন্দি রাখার অভিযোগে তার বোন আলিমা খান আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অন্যদিকে, বুশরা বিবির মেয়ে মুবাশারা খাওয়ার মানেকা তার মায়ের বিষয়ে পৃথক আবেদন করেন।
রায় ঘোষণার সময় আইএইচসির বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো নির্দেশ দেন, কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে ইমরান খানের দুই ছেলের সঙ্গে তার টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে।
আইএইচসি আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। পাশাপাশি কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে আদালতের এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে একটি বাস্তবায়ন প্রতিবেদনও জমা দিতে হবে।
কারাগারে ইমরান খানের সময়
দণ্ডপ্রাপ্ত ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তিনি ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শুরু থেকেই এসব মামলায় দেওয়া সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। তার সমর্থক ও স্বজনরা বারবার অভিযোগ করেছেন, কর্তৃপক্ষ তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করেছে। তবে সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
দুর্নীতিসংক্রান্ত একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বুশরা বিবিকে প্রথমবার ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় নয় মাস কারাভোগের পর ওই বছরের ২৪ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি।
এরপর আরেকটি দুর্নীতিসংক্রান্ত মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়। এরপর দুর্নীতিসংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলায় তাকে অতিরিক্ত সাজা দেওয়া হয়। তিনি এখনো আদিয়ালা কারাগারেই বন্দি রয়েছেন।
হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও বিতর্ক
গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতাল শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার পরিবার ও সমর্থকরা কয়েক মাস ধরে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে, চলতি বছরের শুরুতে শনাক্ত হওয়া তার চোখের সমস্যাটি নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
তবে ২০ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে ইমরান খানকে শিফা হাসপাতালে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার একটি চিকিৎসা-প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর ইমরানের পরিবার আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের যুক্তি, তাকে পিআইএমএসে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের লঙ্ঘন। ওই নির্দেশে পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইমরান খানকে ইসলামাবাদের ওই হাসপাতালে ভর্তি রাখার কথা বলা হয়েছিল।
তবে সরকার ইমরান খানকে পিআইএমএসে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়েছে।
এ ঘটনায় আদালত অবমাননার আবেদনটি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ওই শুনানি করবেন। বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদ, নাঈম আখতার আফগান ও ইশতিয়াক ইব্রাহিম।
একই বেঞ্চে ইমরান খানের স্বাস্থ্য ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ-সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলোরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন