বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ মে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে নেপালের ১০ জন এবং চীনের প্রায় এক ডজন কর্মকর্তা অংশ নেন। বৈঠকে বন্যা, আবহাওয়া ও হিমবাহসংক্রান্ত ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানচিত্র তৈরি এবং হিমবাহসৃষ্ট হ্রদের তালিকা প্রণয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের বিশেষজ্ঞ সৌহার্দ্য যোশি বলেন, হিমবাহে আগাম কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে চীন যেন দ্রুত সেই তথ্য নেপালকে জানায়—বৈঠকে এমন প্রত্যাশা জানানো হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকের পর প্রত্যাশিত মাত্রায় তথ্য পাওয়া যায়নি।
নেপাল সরকারের পানিবিশেষজ্ঞ বিনোদ পরাজুলি বলেন, তিব্বতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস চীন নিয়মিত জানালেও তুষারধস, পানির স্তর বৃদ্ধি, ভূমিধস কিংবা অন্যান্য চরম আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির তথ্য সব সময় ভাগাভাগি করা হয় না।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত বুধবার হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও কাদামাটির বন্যায় নেপাল ও চীনে ১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এখনো ৪ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
দুর্যোগের ১২ দিন আগে চীনের ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার ই-মেইলের মাধ্যমে নেপালকে ভারী বৃষ্টি, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। তবে নেপালের কর্মকর্তাদের মতে, আরও বিস্তারিত ও রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া গেলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমানো সম্ভব হতে পারত।
নেপালে অবস্থিত চীনা দূতাবাস অবশ্য বলেছে, সীমান্তপারের দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং তারা সময়মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করেছে। দুর্গম হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ পর্যবেক্ষণ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছে দূতাবাস।
এদিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো অস্টিন লর্ড বলেছেন, সাম্প্রতিক দুর্যোগের জন্য ধীরগতির সহযোগিতাকে সরাসরি দায়ী করা ঠিক হবে না। তবে নেপাল ও চীনের মধ্যে আরও সুস্পষ্ট ও কার্যকর তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
দুর্যোগের পর নেপাল এখন ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান ব্যবস্থার আদলে চীনের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক তথ্য আদান-প্রদান চুক্তি করতে চায়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় প্রতি ১০ মিনিট অন্তর বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির স্তরের তথ্য আদান-প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। নেপালের আশা, এ ধরনের নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দ্রুত আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।