তিনি আরও বলেন, ‘বাংদেশের সংবিধান সংস্কার কমিটির একমাত্র উদ্দেশ্য গত ৫৩ বছর ভারত সরকার যারা নির্যাতন লুণ্ঠন চালিয়েছিল, শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনা পর্যন্ত যারা বাংলাদেশে খুনের রাজত্ব চালু করেছিল তাদের সেই খুনের বৈধতা জারী করা প্রতিষ্ঠান মুজিবীও সংবিধান, শেখ হাসিনার সংবিধান, ভারতীয় সংবিধানকে টিকিয়ে রাখার জন্য। আমরা তাদেরকে বলে দিতে চাই আপনারা যতই মুজিব সংবিধান আঁকড়ে ধরে রাখতে চান, ততই ওই সংবিধানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ গর্জে উঠবে।’
নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘আমরা তারেক রহমানকে বলতে চাই, আপনার বাপ যখন ক্ষমতায় এসেছিল ডিজেএএফআই ভাইদের ব্যবহার করেছিল। ক্যান্টনমেন্ট ব্যবহার করেছিল। আমরা সেই ইতিহাস ভুলে যাই নাই। কিন্তু আপনার বাপ যাদেরকে দলে নিয়ে এসেছিল, এই ধরণের কেনাবেচা করে নিয়ে আসে নাই। তারা দাঁড়িয়েছিল প্যাসিবাদি জনতার যে অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছিল সেই অভ্যুত্থানকে সংগঠিত করে ভারতের বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে বলেছিল, আমার বাংলাদেশ আগামির বাংলাদেশ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। কিন্তা আপনি আপনার বাপের পথ থেকে সড়ে আপনার মায়ের পথ থেকে সড়ে সেই বাংলাদেশ বিরোধী শক্তি ভারতের সাথে গিয়ে হাত মিলিয়েছেন। একটা কথাই বলবো লজ্জাশরম চলিয়া গেলে মানুষ আর কোন কাজ করতে দ্বিধা করে না। আল্লারওয়াস্তে লজ্জ্বা-শরম ফিরাইয়া আনেন।’
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, এই প্রত্যেকটা অফিস এখন বিরোধী দলের। এমপি হোক মন্ত্রী হোক কর্তৃত্ব নাই। যারা এমপি আছে তাদেরকে অফিসগুলোতে ঠিকমতো স্পেস দেয়া হয় না। ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপির পরিচয়ে ওই অফিসগুলোতে একেকজনের যে নেতাগিরিতে অফিসের প্রত্যেকটা লোক বিরক্ত। আজকে থানা অফিস চালাইতে পারে না। ইউএনও অফিস চালাইতে পারে না। ডিসি এসপি যারা তারা অফিস চালাইতে পারে না। অথচ বিএনপি দলের নেতাদের এক একজনের ফাঁপড়ে প্রথ্যেকটা অফিসের কাজ ব্যহত হচ্ছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে কথা বলে, বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে কথা বলে, মানুষের ভোটাধিকারের পক্ষে কথা বলে, মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলে, এদেশের সম্প্রীতির পক্ষে কথা বলে, হিন্দু-মুসলমান-বৈদ্য-খৃস্টান সবাইকে সাথে নিয়ে নারী পুরুষ, শিক্ষক, ছাত্র জনতা সকলকে সাথে নিয়ে একটা সুন্দর বাংলাদেশের কথা বলে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি।
পথসভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কুড়িগ্রাম পৌরসভার এনসিপির প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন জলা এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক মুকুল মিয়া ও সদস্য সচিব মাসুম মিয়ার নাম।
জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামেও ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচি পালনে বুধবার বিকেলে কুড়িগ্রাম কলেজ মোড়স্থ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ হতে পদযাত্রাটি শুরু করে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এখানে পথসভায় জেলা এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক ও মিডিয়া সেল প্রধান রাশেদুজ্জামান তাওহীদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, জেলা এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক মুকুল মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাহমুদুল হাসান জুয়েল, সদস্যসচিব মাসুম মিয়া, যুগ্ম আহবায়ব আসাদুজ্জামান সরকার, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব দিনার মিনহাজ, জেলা নারী শক্তির আহবায়ক নাসিরা খন্দকার নিসা, সদস্য সচিব মেরিনা আক্তার প্রমুখ।