তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আসন্ন কিছু রাজনৈতিক ঘটনার প্রভাবে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বর্তমান মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম জয়ী হলে তিনি ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে স্টারমারের নেতৃত্ব নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সম্প্রতি জি-সেভেন (জি-৭) সম্মেলনে ইইউ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর স্টারমার নিজেই ২২ জুলাই ব্রাসেলসে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যকে ইউরোপের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।
স্টারমারের ভাষ্য, এই উদ্যোগের ফলে দুই পক্ষ জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে।
প্রস্তাবিত সমঝোতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো খাদ্য ও পানীয়পণ্য রপ্তানি সহজ করা। এর ফলে ইউরোপে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের সীমান্ত তল্লাশি ও প্রশাসনিক জটিলতা কমতে পারে। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাজ্যকে খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক ইইউর নির্দিষ্ট মান ও বিধি অনুসরণ করতে হবে।
এ ছাড়া দুই পক্ষের মধ্যে জ্বালানি বাজার আরও সমন্বিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এর ফলে ব্রিটিশ পণ্যের ওপর ইইউর নতুন কার্বন সীমান্ত করের প্রভাব কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এর ফলে জ্বালানি ও জলবায়ু নীতিতে ইইউর প্রভাব বাড়তে পারে।
আলোচনায় থাকা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ইউথ মোবিলিটি’ চুক্তি। এর আওতায় ইউরোপের ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা যুক্তরাজ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বসবাস ও কাজের সুযোগ পেতে পারেন।
সব মিলিয়ে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের ইউরোপনীতি নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে স্টারমার সরকার এসব উদ্যোগ কতটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।