ম্যাচটিতে তাওহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও এনামুল হক বিজয়ের লড়াকু ফিফটিতে প্রথমে ব্যাটিং করা মোহামেডান ৫ উইকেটে ৩৩৯ রানের পাহাড় গড়ে। জবাবে রান তাড়ায় নেমে হাবিবুর রহমানের রেকর্ড গড়া ১৫ বলের ঝোড়ো ফিফটি সত্ত্বেও রূপগঞ্জ ৩৪ ওভারে ২৩২ রানেই গুটিয়ে যায়।
হৃদয়ের সেঞ্চুরি ও মোহামেডানের রানের পাহাড়
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে মোহামেডানের শুরুটা ভালোই ছিল। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ৩৮ বলে ৩৪ রান করে আউট হলেও দ্বিতীয় উইকেটে এনামুল হক বিজয় ও অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় দলের হাল ধরেন। বিজয় ৬৩ বলে ৫টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৭১ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন।
বিজয় বিদায় নিলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি তুলে নেন তাওহিদ হৃদয়। ১০৬ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১০১ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন তিনি। মিডল অর্ডারে আফিফ হোসেন ধ্রুবর ৭০ বলে ৭০ রানের ইনিংস এবং শেষ দিকে ইয়াসির আলী চৌধুরীর মাত্র ১৪ বলে ৩৩ রানের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে মোহামেডান নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩৩৯ রানের বিশাল পুঁজি পায়। রূপগঞ্জের পক্ষে শেখ মেহেদী হাসান ২টি উইকেট নেন।
হাবিবুরের তাণ্ডব ও ১৫ বলের রেকর্ড ফিফটি
৩৪০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই আশিকুর রহমান শিবলিকে (৫) হারায় রূপগঞ্জ। তবে এরপরই মিরপুরের আকাশ জুড়ে শুরু হয় হাবিবুর রহমানের তাণ্ডব। মোহামেডানের দুই তারকা ও জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার ওপর দিয়ে রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চালান তিনি।
চলতি মৌসুমে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা তাসকিন আহমেদের এক ওভারেই ২টি ছক্কা ও ২টি চারে ২৫ রান তুলে নেন হাবিবুর। এরপর গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতির ঝড় তুলে আলোড়ন সৃষ্টি করা তরুণ পেসার নাহিদ রানা আসেন নিজের প্রথম ডিপিএল ম্যাচ খেলতে। কিন্তু প্রথম ওভারেই তাঁকে চরম এক তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। নাহিদের সেই ওভারের প্রথম বলেই এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মারেন হাবিবুর। দ্বিতীয় বলে ইনসাইড আউট করে কাভারের ওপর দিয়ে মারেন ছক্কা। তৃতীয় বল ডট হলেও চতুর্থ ও পঞ্চম বলে লং অফ ও স্কয়ার লেগ অঞ্চল দিয়ে টানা দুটি ছক্কা হাঁকান তিনি। শেষ বলে মুশফিকুর রহিমের মাথার ওপর দিয়ে তুলে মেরে লং অন দিয়ে চার আদায় করলে নাহিদের প্রথম ওভার থেকেই আসে ২৬ রান।
হাবিবুর রহমানের ফিফটি পূর্ণ হওয়ার মুহূর্তটি অবশ্য ছিল কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়া। তাইজুল ইসলামের বলে হাবিবুর যখন খোঁচা মেরেছিলেন, তখন স্লিপে দাঁড়ানো তাওহিদ হৃদয় ও উইকেটকিপার এনামুল হকের মাঝ দিয়ে বল চলে যায় বাউন্ডারিতে। হৃদয় আরেকটু তৎপর থাকলে হয়তো ক্যাচ হতে পারত, কিন্তু বল সীমানা পার হতেই ১৫ বলে ফিফটি পূর্ণ হয়ে যায় হাবিবুরের।
এর মাধ্যমে লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডে পারভেজ হোসেন ইমনের পাশে বসলেন হাবিবুর। গত মৌসুমে আবাহনীর হয়ে শাইনপুকুরের বিপক্ষে ১৫ বলে ফিফটি করেছিলেন পারভেজ। তার আগে ২০১৯ সালে ১৮ বলে ফিফটি করে এই রেকর্ড নিজের দখলে রেখেছিলেন ফরহাদ রেজা। উল্লেখ্য, লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে বাংলাদেশিদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির (৪৯ বল) রেকর্ডটিও এই হাবিবুরেরই দখলে।
বড় ব্যবধানে মোহামেডানের জয়
রেকর্ড গড়ার পর অবশ্য নিজের ইনিংসটাকে বেশিদূর টেনে নিতে পারেননি হাবিবুর। তাইবুর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ২৭ বলে ৫৯ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কার মার।
হাবিবুরের বিদায়ের পর রূপগঞ্জের ইনিংস নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। মাহমুদুল হাসান জয় (১৩), লিটন দাস (১৮), ইরফান শুক্কুর (১৯) কিংবা মেহেদী হাসান মিরাজ (১)—কেউই উইকেটে থিতু হতে পারেননি। শেষ দিকে অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ৫০ বলে ৩৭ এবং নাসুম আহমেদ ৪০ বলে ৪৫ রান করে কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছেন। ৩৪ ওভারে ২৩২ রানেই অলআউট হয় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।
প্রথম ওভারে মার খেলেও ম্যাচ শেষে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান নাহিদ রানা। ১০.১৪ ইকোনমি রেট হলেও ৭ ওভারে ৭১ রান খরচায় দলের সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট শিকার করেন তিনি। এছাড়া স্পিনার তাইবুর রহমান ৩৩ রানে ৩টি এবং সাইফ উদ্দিন ২৫ রানে ২টি উইকেট নিয়ে মোহামেডানের ১০৭ রানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
মোহাম্মেডান স্পোর্টিং ক্লাব: ৩৩৯/৫ (৫০ ওভার; তাওহীদ হৃদয় ১০১, এনামুল হক বিজয় ৭১, আফিফ হোসেন ধ্রুব ৭০, মোহাম্মদ নাঈম ৩৪, ইয়াসির আলী ৩৩*; শেখ মেহেদী হাসান ২/৭৩, শরীফুল ইসলাম ১/৫০, হাসান মাহমুদ ১/৯০, মেহেদী হাসান মিরাজ ১/৪০)
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ: ২৩২/১০ (৩৪ ওভার; হাবিবুর রহমান ৫৯, নাসুম আহমেদ ৪৫, শেখ মেহেদী হাসান ৩৭, ইরফান শুক্কুর ১৯, লিটন দাস ১৮; নাহিদ রানা ৪/৭১, তাইবুর রহমান ৩/৩৩, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ২/২৫, তাইজুল ইসলাম ১/৩৬)
ফল: মোহাম্মেডান স্পোর্টিং ক্লাব ১০৭ রানে জয়ী।