তবে এ পর্যন্ত হরমুজে কোনো ভারতীয় ট্যাংকার জাহাজে হামলা হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন— হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কোনো ভারতীয় জাহাজে যেন হামলা না করা হয়।
কী কারণে ভারতকে এই ‘ছাড়’ দিলো ইরান— তা জানতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। জয়শঙ্কর বলেছেন, এখানে ‘লুকোছাপা’-র কোনো ব্যাপার নেই, এবং এটি ঘটেছে ইরানের সঙ্গে ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই।
গতকাল রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর বলেন, “এর মধ্যে লুকোছাপার কোনো ব্যাপার নেই। আমি ইরানের সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং তার কিছু ফলাফল এসেছে। এটা হলো সেই ফলাফল। আমাদের আলোচনা এখনও জারি আছে। ভারত সবসময়েই যে কোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আলাপ-আলোচনা, যুক্তি এবং সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দেয়।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জিজ্ঞেস করেছিল, হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় ট্যাংকারকে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে কোনো ‘গোপন চুক্তি’ বা ‘বিনিময়’ কাজ করেছে কি-না। জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “না, বিনিময়ের কোনো ইস্যু এখানে নেই। পুরো ব্যাপারটিই ঘটেছে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে। ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বহু বছরের। বর্তমানে যে সংঘাত চলছে— ভারত মনে করে এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক।”
প্রসঙ্গত, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।
হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।