মক্কা সিটি ও পবিত্র স্থানগুলোর রয়্যাল কমিশন–এর প্রধান নির্বাহী সালেহ আল-রাশিদ জানিয়েছেন, প্রকল্পটির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিমানবন্দরটি বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বে নির্মাণ করা হবে এবং কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এর কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না তা নিশ্চিত করা হবে।
বর্তমানে মক্কায় পৌঁছাতে জেদ্দা হয়ে ৮০–৯০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। নতুন বিমানবন্দর চালু হলে এই পথের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
প্রকল্পটি ভিশন ২০৩০–এর অংশ, যার লক্ষ্য হজ ও ওমরাহ যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
একই সঙ্গে মক্কায় মেট্রো প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা সম্পন্ন হয়েছে। বাস্তবায়িত হলে পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে।
‘স্মার্ট মক্কা’ উদ্যোগের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি চালু হয়েছে। বিশেষ করে জামারাত সেতু–এর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভিড় নিয়ন্ত্রণে পূর্বাভাসভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
শহরের পরিবহন ব্যবস্থাও আধুনিক করা হয়েছে। বর্তমানে ১২টি রুটে প্রায় ৪০০ বাস চলছে, যা শতাধিক স্টপেজ ও কেন্দ্রীয় স্টেশনকে সংযুক্ত করেছে। পাশাপাশি চালু হয়েছে ‘মক্কা ট্যাক্সি’ সেবা, যেখানে আধুনিক যানবাহন, ট্র্যাকিং ও ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সুবিধা রয়েছে।
এছাড়া আরাফাত ও মিনা–সহ গুরুত্বপূর্ণ হজস্থলগুলোতেও উন্নয়ন কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত অবকাঠামো, বহুস্তরবিশিষ্ট তাঁবু, নতুন আবাসিক টাওয়ার এবং ২০০ শয্যার জরুরি হাসপাতাল।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এই প্রকল্পগুলো বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এবং হজযাত্রীদের সন্তুষ্টির হার ৯০ শতাংশের বেশি উন্নীত করতে সাহায্য করবে। বিমানবন্দর ও মেট্রো প্রকল্প ভবিষ্যতে মক্কার যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।