হাদি হত্যার সঙ্গে ভারতের সংশ্লিষ্টতা, দেশীয় খুনিদের চিহ্নিতকরণ, খুনিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের অগ্রগতি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণের দাবিতে বুধবার (৩ জুন) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় ইনকিলাব মঞ্চ।
সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ওসমান হাদিকে শুধু আওয়ামী লীগের বিরোধিতার কারণে হত্যা করা হয়েছে এমনটা মনে করলে ভুল হবে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও বড় দেশি-বিদেশি চক্রান্ত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে জানতে হবে, ভারত এই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে কাউকে ব্যবহার করেছে কি না।
আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই সীমান্ত সিল না করায় অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, হালুয়াঘাট সীমান্ত বাংলাদেশের একটি পরিচিত সীমান্ত। বিকেল পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে সীমান্ত সিল হওয়ার কথা থাকলেও তা রাত পর্যন্ত হয়নি। কেন হয়নি, তার জবাব সংশ্লিষ্টদের দিতে হবে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, খুনিরা দেশ ছাড়ার পর তাদের পরিচয় সামনে আনা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত রয়েছে। সে কারণে বাংলাদেশের একক তদন্তে নয়, জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, আমরা যমুনার সামনে কর্মসূচি পালন করতে গিয়েছিলাম শুধু জাতিসংঘের তদন্তের দাবি নিয়ে। কিন্তু আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তারপরও আমরা মনে করি, এই হত্যার রহস্য উদঘাটনে আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রয়োজন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব বলেন, জাতিসংঘের কাছে পাঠানো তদন্তসংক্রান্ত চিঠির বর্তমান অবস্থা জনগণকে জানাতে হবে। পাশাপাশি খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মশাল মিছিল এবং শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল। এছাড়া আগামী পাঁচ জুমা দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।