বৃহস্পতিবার (০৬ আগষ্ট) দুপুরে শহরের কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। পরে জেলা প্রশাসক মনিরা হকের হাতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি তুলে দেন তারা।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা জামায়াতের সম্পাদক মাওলানা আবদুর রহিম, সহকারী সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন, শহর জামায়াতের আমির প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, এনসিপির জেলা সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, এবি পার্টির জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক আফলাতুন বাকি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম, জাগপার জেলা সভাপতি মো. সাইফুদ্দিন ও বিডিপির জেলা সম্পাদক মো. ইসমাইলসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানকালে বক্তারা বলেন, জেলার বেশিরভাগ এলাকায় টানা কয়েক দিন গ্যাস না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এতে গৃহস্থালি রান্নাবান্নার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাজারে শাকসবজি ও নিত্যপণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট কাজ করছে কি না, তা দ্রুত তদন্ত করে দেখার তাগিদ দেন তাঁরা।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, তীব্র সংকটের মধ্যেই অযৌক্তিকভাবে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের ওপর ভূতুড়ে বিলের নামে বাড়তি বোঝা চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পার হলেও এখন পর্যন্ত অভ্যুত্থানে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশ করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অনতিবিলম্বে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ও তাঁদের পরিবারের সুবিধার্থে পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশের আহ্বান জানান তাঁরা।
স্মারকলিপিতে- গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল আদায় অবিলম্বে বন্ধ করা ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশ সহ মূলত চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়।