বুধবার দিবাগত রাত প্রায় আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাগর মণ্ডল শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবারিয়া গ্রামের শাহাদাত মণ্ডলের ছেলে এবং শাখারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন।
নিহতের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সাগর মণ্ডলের বিরোধ চলছিল। তিনি স্ত্রী মারজিয়া খাতুনকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চালিতাবাড়ি গ্রামে বসবাস করতেন। ঘটনার রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘরে খাবার খাওয়ার সময় সাগর বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বাইরে হৈচৈ শুরু হলে তার স্ত্রী বেরিয়ে এসে দেখেন, সাগরের জ্যাঠাতো ভাই জুলহাসের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল টিনের গেট ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাগরের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালাচ্ছে।
প্রাণ বাঁচাতে সাগর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন অভিযোগ করেন, স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আহত সাগরকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও দুর্বৃত্তরা তাদের পিছু নেয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শাপলা নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, নিহত সাগর মণ্ডলের বিরুদ্ধে মারামারি, মাদক ও অস্ত্র আইনে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার সঙ্গে বর্তমান হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।