ব্যাটারদের কার্যকরী অবদানে স্বাগতিকরা পাকিস্তানের স্পিনারদের হাতের মুঠোয় রেখেছিল। কোনো ব্যাটার ও জুটি দুই অঙ্কের নিচে শেষ করেনি। আলোকস্বল্পতার কারণে বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনের খেলা শেষ হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দাপুটে অবস্থানে। জাস্টিন গ্রিভসের হাফ সেঞ্চুরি এবং অপরাজিত ৬৬ রানের জুটিতে পাঁচ উইকেট হাতে রেখে ২৩৯ রান তাদের।
দ্বিতীয় টেস্টের শুরুতে আলোচিত বিষয় ছিল মোহাম্মদ আব্বাসের বাদ পড়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আগ্রাসী শুরুতে তার শূন্যতা টের পেয়েছে সফরকারীরা। বৃষ্টির কারণে আগেভাগেই লাঞ্চ ব্রেক শুরুর আগে ৯.৫ ওভারে ৪৯ রান করে ক্যারিবিয়ানরা। আবহাওয়া বাগড়া দেওয়ার আগেই শেষ বলে মোহাম্মদ আলীর শিকার হন তেজনারাইন চন্দরপল। ভালো শুরুর আশা নিয়ে দ্বিতীয় সেশনে খেলতে নামে পাকিস্তান।
মাঠে নামার পর তারা বুঝে যায়, এই সেশন ভিন্ন ধরনের হবে। আলী উসমান ও সাজিদ খান জুটি বেঁধে ক্যারিবিয়ানদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। দ্রুতই তারা উইকেট পেয়ে যায়। পাকিস্তান রিভিউ নিলে ব্র্যান্ডন কিং এলবিডব্লিউ হন, উসমান পান প্রথম টেস্ট উইকেট। ক্যারিবিয়ান ওপেনার (৪৬) হাফ সেঞ্চুরি না করেই ফিরে যান।
আরেকটি রিভিউয়ে পাকিস্তান তৃতীয় উইকেটের দেখা পায়। সাজিদ খানের বল কাভেম হজের গ্লাভস ছুঁয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ানের দুর্দান্ত ক্যাচ হন। থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে মাঠ ছাড়েন উইন্ডিজ ব্যাটার।
শাই হোপ ও আমির জাঙ্গু সতর্ক হয়ে রানের চাকা সচল রাখেন। কভার দিয়ে হোপের একটি চমৎকার ছক্কায় ম্যাচের গতি পাল্টে যায়। পরের কয়েক ওভারে বাউন্ডারি এসেছে ঘন ঘন। শেষ পর্যন্ত উবাইদ শাহ জাঙ্গুকে রিজওয়ানের ক্যাচ বানিয়ে প্রথম উইকেট পান।
পরে আরও কয়েকটি বাউন্ডারি হজম করেন উবাইদ, তিন ওভার করেই তার স্পেল শেষ হয়। মোহাম্মদ আলী তার ফিরতি স্পেলে তিন ওভারে দেন ১৭ রান। হোপকে নিয়ে ৫৩ রানের জুটি গড়েন গ্রিভস।
হোপকে আলী নিজের শিকার বানান। শেষ সেশনে তার বিদায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নাইটওয়াচম্যান হিসেবে রোস্টন চেজকে মাঠে নামায়। শেষ বিকেলে উবাইদ আবারও খরুচে ছিলেন। দুই ওভারে আরও ১৫ রান দেন তিনি। বাবর আজম আবার স্পিনারদের নামিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা চালান।
১২৫ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন গ্রিভস। অধিনায়ক চেজ অপরাজিত ছিলেন ৩৬ রানে।