শনিবার (৬ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান প্রবেশ সড়কের একটি অংশে মাটি স্পর্শ করলেই তীব্র তাপ অনুভূত হচ্ছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। সম্ভাব্য কোনো দুর্ঘটনা বা বিস্ফোরণের আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তারা উত্তপ্ত স্থানে গর্ত করে পানি ঢেলে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা চালায়। তবে বারবার পানি প্রয়োগের পরও তাপমাত্রা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাটির নিচ থেকেও তাপ নির্গত হচ্ছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শুরুতে ঘটনাটি ছোট পরিসরে দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত এলাকার বিস্তৃতি বাড়তে থাকে। এতে রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট স্থানটি ঘিরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনাও শুরু হয়েছে। কেউ ভূগর্ভস্থ গ্যাসের উপস্থিতি, কেউ রাসায়নিক বিক্রিয়া, আবার কেউ অন্য কোনো অজানা কারণের কথা বলছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সংস্থা এ ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুল রহমান মিয়া বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। রোগী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন জানান, প্রাথমিকভাবে সেখানে বিদ্যুতের কোনো ত্রুটি বা লিকেজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এবিএম বাসার বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছি। উত্তপ্ত স্থানে পানি দিয়েও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। মাটির নিচ থেকেও তাপ আসছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। সঠিক কারণ জানতে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা জরুরি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওসাদ হাসান বলেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করা হবে।
রহস্যজনক এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে অযথা ভিড় না করার পরামর্শ দিয়েছে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের আশ্বাস দিয়েছে।