উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের কিসমত শালধর গ্রামে মুহুরী নদীর ২৫০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের মেরামত কাজ শুরু হলেও স্থানীয়দের মন থেকে কাটেনি আতঙ্ক। চলমান কাজের উত্তর পাশে মোল্লাবাড়ি সংলগ্ন আরও প্রায় ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দৃশ্যমান রয়েছে। বর্ষা বা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে যেকোনো মুহূর্তে এই অংশটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ ২০০ মিটার অংশে সরকারি কোনো টেকসই উদ্যোগ বা তৎপরতা না দেখে, নিজেদের শেষ সম্বল ঘরবাড়ি ও ফসল রক্ষা করতে শেষ পর্যন্ত বুক বেঁধে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে বাঁধের দুর্বলতম স্থানগুলোতে বালুর বস্তা ফেলছেন এবং বাঁশ গেড়ে ভাঙন ঠেকাতে প্রতিরোধক তৈরি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সামান্য চেষ্টা প্রকৃতির রুদ্ররূপের সামনে কতটুকু টিকবে তা নিয়ে তারা চরম সংশয়ে আছেন।
তাদের দাবি দ্রুত তম সময়ের মধ্যে ২০০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ স্থায়ী এবং টেকসইভাবে মেরামত করা না হলে, মুহুরী নদীর পানি সামান্য বাড়ার সাথে সাথেই বাঁধ উপচে হু হু করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করবে। আর এতে মুহূর্তেই তলিয়ে যাবে শত শত ঘরবাড়ি, ফসল জমি ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৪০০ থেকে ৫০০টি পরিবার।
কিসমত শালধর গ্রামের মোল্লা বাড়ির আবু আহমেদ মোল্লা জানান,গতবারের বন্যায় বেড়িবাঁধের এক ফুট উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়িবাঁধ মেপে নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সেখানে বাঁধ তৈরি হলে পানির চাপে এ পাশের বাঁধ ভেঙ্গে যাবে। ৪০০-৫০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন কালক্ষেপণ না করে দ্রুত এই ২০০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের স্থায়ী সংস্কারে এগিয়ে আসে।
চিথলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক বলেন, মোল্লা বাড়ির পাশে উত্তর পাশের বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো জরুরী ভিত্তিতে মেরামতে কাজ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ সকল বাঁধ মেরামত করা হবে।