মঙ্গলবার ( ৭ জুলাই) সকালের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান ।
এর আগে বৃহস্পতিবার ( ২ জুলাই) ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রী কলেজে এইচএসসি প্রশ্নপত্র জটিলতার এ ঘটনা ঘটে।
অব্যাহতি প্রদান করা কর্মকর্তারা হচ্ছেন, ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব আসাদুল হক ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনোয়ার হোসেন। তিনি এই কেন্দ্রে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অন্যান্যরা হচ্ছেন, কেন্দ্রের পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি ৩ জন সদস্য (শিক্ষক) ও ২ কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা ৪ জন শিক্ষক ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্র সচিব, ট্যাগ অফিসার, পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির ৩ সদস্য ও ২ কক্ষে দায়িত্বে থাকা ৪ জন শিক্ষকসহ ৯ জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মনিরুল হাসান বলেন, পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন এবং ২০২৫ সালের অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্রে নিয়মিত ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছেন। এটি অনেক বড় দায়িত্বহীনতা। এই দায়িত্বহীনতার কারণে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ- উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়।
এ সময় তিনি আরো বলেন, সেই দিন এমন ঘটনার শুরুর দিকে আমাকে অসত্য তথ্য দেয়া হয়েছিল। মূলত ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে মোট ৬১ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল ৫০ জন এবং ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ জন ।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ২ জুলাই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কেন্দ্র থেকে বের হয়ে পরীক্ষার্থীরা গত বছরের (২০২৫) প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন । এরপর পরীক্ষার্থী- অভিভাবক কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। এ ব্যাপারে তাদের কোন সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আশাদুল হক বলেন, তিন ঘন্টা পরীক্ষার সময়কালে ওই পরীক্ষার্থীরা ও কক্ষে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরাও বিষয়টি বুঝতে পারেননি। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ১০৭ নং কক্ষে ২০২৬ সালের নিয়মিত ২০ পরীক্ষার্থীর ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। অন্যদিকে অনিয়মিত ২০ পরীক্ষার্থী আবার ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন।
চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় গাইবান্ধায় জেনারেল ,মাদ্রাসা ও কারিগরি বিভাগে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৪৭১ জন। জেলার পাঁচটি কেন্দ্রে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৯৫৫ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ৫১৬ জন।