আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাব এখনো বিদ্যমান থাকায় দেশের চার সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ওড়িশা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি স্থল নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে ভারতের পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে।
তবে এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বিরাজ করছে। ফলে উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তাল সাগরের কারণে নৌযান চলাচলেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
অতিভারি বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। এতে কোথাও কোথাও জনজীবন ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা সার্বক্ষণিক আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হবে। ভারি বৃষ্টির সময় বজ্রপাত ও জলাবদ্ধতা থেকে নিরাপদ থাকতে এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করতে সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চলে। চট্টগ্রাম জেলায় সর্বোচ্চ ২৮৩ মিলিমিটার, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ১৯৫ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ১৬৭ মিলিমিটার এবং বান্দরবানে ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজধানীতেও সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। দুপুর পর্যন্ত ঢাকায় ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।