বুধবার (৫ আগস্ট ) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাদুল্লাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন মিয়া।
এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলের দিকে উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে লাশটি উত্তোলন করা হয়। তৈয়ব আলী সরকার উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের নলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তৈয়ব আলী সরকারের বড় মেয়ে কোহিনুর বেগম গত ৭ জুন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর আমলি আদালতে তার ছোট বোনসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত গত ১১ জুন মামলাটি তদন্তের জন্য সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেন। মামলা আসামিরা হচ্ছেন, তৈয়ব আলী সরকারের ছোট মেয়ে রহিমা বেগম তার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, জামাতা হামিদুল ইসলাম এবং ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং নলডাঙ্গা শাখার ব্যবস্থাপক সোহাগ মিয়া।
পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, তৈয়ব আলী সরকার গত মার্চ মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার খবর পেয়ে তার ছোট মেয়ে রহিমা বেগম চিকিৎসার জন্য ১৪ মে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর গত ১৫ ও ১৬ মার্চ দুটি পৃথক চেকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং নলডাঙ্গা শাখায় গচ্ছিত তার ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৬ টাকা উত্তোলন করা হয়। পরে ১৮ মে রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার ও তার জামাতা হামিদুল ইসলাম তাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ১৯ মেয়ে রাতে তিনি মারা যান। পরের দিন ২০ মে নলডাঙ্গা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
সাদুল্লাপুর থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিপন মিয়া বলেন, মামলার বাদীর অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় জোরপূর্বক চেকে টিপসই নিয়ে আসামিরা যোগসাজোসে ওই টাকা উত্তোলন করেন। পরে যাতে বিষয়টি প্রকাশ না পায়। সেজন্য রহিমা বেগম তার বাবাকে মেয়ে জামাইয়ের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আসামিদের সহযোগিতায় বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।