গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ছাগলনাইয়া উপজেলার উত্তর ছয়ঘরিয়া গ্রামের সাকিব (১৮), ইয়াছিন (১৬) ও আরমান (১৫)। তারা পেশায় টমটম চালক।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে শুভপুর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া এলাকায় ওই নারীকে আর্থিক সহায়তার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নেন সাকিব, আরমান ও ইয়াছিন। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তিনজনে মিলে ধর্ষণ করে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সালিশ বৈঠকে বসেন। সেখানে অভিযুক্তদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে জোরপূর্বক বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোকছেদ আলম জানান, গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সালিশে মীমাংসা সম্ভব নয় বলে তিনি ওই বৈঠকে অংশ নেননি এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের নজরে এলে তারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
ছাগলনাইয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে এবং ভুক্তভোগী নারীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।